দুর্গাপুজো শেষ হতে না হতেই বাঙালির ঘরে ঘরে শুরু হয় লক্ষ্মীপুজোর প্রস্তুতি। দশমীর সিঁদুর খেলার আবেশ ম্লান না হতেই আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা রাত জুড়ে জেগে দেবীর আরাধনায় মেতে ওঠেন ভক্তরা। এই পূর্ণিমাকেই বলে কোজাগরী পূর্ণিমা আর এই পূর্ণিমার রাতেই হয় কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। বিশ্বাস করা হয়, এদিন দেবী লক্ষ্মী স্বয়ং মর্ত্যে নেমে আসেন এবং ঘরে ঘরে ঘুরে প্রশ্ন করেন, 'কে জাগো আছো?' যাঁরা রাতভর জেগে দেবীকে পুজো করেন, তাঁদের ঘর ভরে ওঠে দেবীর অশেষ কৃপায়, ধন-সম্পদ ও সৌভাগ্যে।
পঞ্জিকা অনুসারে, ২০২৫ সালের কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো অনুষ্ঠিত হবে ৬ অক্টোবর। পূর্ণিমা তিথি শুরু ৬ অক্টোবর, সকাল ১১টা ২৪ মিনিটে। পূর্ণিমা তিথি শেষ ৭ অক্টোবর, সকাল ৯টা ৩৩ মিনিটে।
অতএব, লক্ষ্মীপুজো মূলত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকে রাত অবধি পালিত হবে। যদিও তিথি ৭ অক্টোবর সকালেও বিদ্যমান, তবে ঐতিহ্যগতভাবে পূর্ণিমা রাতের পূজা-অর্চনাকেই সর্বাধিক শুভ ও ফলপ্রদ মনে করা হয়।
পঞ্জিকা অনুসারে শুভক্ষণ আছে দুটি সময়ে, কোন কোন সময়ে দেখে নিন এক নজরে। সন্ধ্যাকালীন পুজোর সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। মধ্যরাত্রি পুজো- রাত অবধি দেবীর আরাধনা করাই সর্বোত্তম। সুতরাং, ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা থেকেই পুজোর শুভক্ষণ শুরু হবে এবং ওই রাতকেই কোজাগরী রাত বলা হয়।
বাংলা হিন্দু সংস্কৃতিতে দুর্গাপুজোর পর সবচেয়ে বড় পুজো হল কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। এই রাতে বিশ্বাস করা হয়, দেবী লক্ষ্মী তাঁর ভক্তদের পরীক্ষা নেন-কে সত্যিই ভক্তিভরে আরাধনা করছে। তাই পুজোর রাতে জেগে থাকা, বাড়ি আলোকিত রাখা, লক্ষ্মীস্তোত্র পাঠ এবং আরতি করা শুভ বলে মনে করা হয়। অনেকেই বলেন, দেবী এদিন শুধু ধন-সম্পদ নয়, সংসারে শান্তি, সৌভাগ্য ও সন্তানের মঙ্গলও দান করেন।
এই দিনে ভোগ হিসাবে খিচুড়ি, পাঁচরকম ভাজা, নারকেলের নাড়ু, মিষ্টি ও ফল নিবেদন করা হয়। বাড়ি আলপনা ও প্রদীপ দিয়ে সাজানো হয়। গৃহিণীরা বিশেষভাবে দেবীকে আহ্বান জানান, যেন সংসার ভরে ওঠে শান্তি ও সমৃদ্ধিতে।
দুর্গাপুজোর আনন্দ শেষ হলেও, কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোয় বাঙালির ভক্তি ও আবেগ আবারও নতুন রূপে জেগে ওঠে। ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর রাত তাই ভক্তদের কাছে এক বিশেষ মাহাত্ম্যের সময়-যখন দেবী লক্ষ্মীর কৃপা লাভের জন্য সকলে জেগে থাকবেন, প্রার্থনা করবেন, আরাধনায় মগ্ন হবেন। তাহলে প্রস্তুত তো? এই কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবীকে আহ্বান জানানোর জন্য?