Calcutta Television Network

মহালয়া কি এবং কেন ?

মহালয়া কি এবং কেন ?

19 September 2024 , 07:16:18 pm

সনাতন ধর্ম অনুসারে এই দিনে প্রয়াত আত্মাদের মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, প্রয়াত আত্মাদের যে সমাবেশ হয় তাহাকে ‘মহালয়’ বলা হয়। মহালয় থেকে মহালয়া। পিতৃপক্ষের (অমাবস্যা পর্যন্ত) শেষদিন এটি এবং দেবীপক্ষের (পূর্ণিমা পর্যন্ত) সূচনা।

পিতৃলোককে স্মরণের অনুষ্ঠানই মহালয়া। এমনটিও বলা হয়ে থাকে যে, পিতৃপক্ষের অবসানে, অন্ধকার অমাবস্যার সীমানা ডিঙিয়ে আমরা যখন আলোকময় দেবীপক্ষের আগমনকে প্রত্যক্ষ করি - তখনই সেই মহান লগ্নটি আমাদের জীবনে \'মহালয়ার \' বার্তা বহন করে আনে। এ ক্ষেত্রে স্বয়ং দেবীই হচ্ছে সেই মহান আশ্রয়, তাই উত্তরণের লগ্ন টির নাম মহালয়া। মহালয়ার মধ্য দিয়েই দেবীর মর্ত্যে আগমনের সূচনা ঘটে। বিশেষ পূজা আর মন্দিরে মন্দিরে শঙ্খের ধ্বনি ও চণ্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে দেবীকে আবাহন করা হয়।

মহালয়ার সঙ্গে অবসান হয় কৃষ্ণপক্ষের। এর পর সূচনা হয় দেবীপক্ষের। এরপর শুক্লপক্ষের প্রতিপদ থেকে নবমী পর্যন্ত নয়টি রাত্রিতে দুর্গার নয়টি রূপের পূজা চলে। এই নয়টি রূপের নাম হল- শৈলপুত্রী, ব্রহ্মচারিণী, চন্দ্রঘণ্টা, কুষ্মান্ডা, স্কন্দমাতা, কাত্যায়নী, কালরাত্রি, মহাগৌরী, সিদ্ধিদাত্রী।

কালিকাপুরাণ অনুসারে, রাবণবধে রামচন্দ্রকে সাহায্য করার জন্য রাত্রিকালে দেবীর বোধন করেছিলেন ব্রহ্মা।

পুরাণ মতে, সূর্যের উত্তরায়ণ হচ্ছে দেবতাদের দিন। উত্তরায়ণ অর্থ বিষুবরেখা থেকে সূর্যের ক্রমশ উত্তরে গমন। সূর্যের এই গমনে সময় লাগে ছয় মাস। এই ছয় মাস দেবতাদের একদিনের সমান। দিনের বেলায় জাগ্রত থাকেন দেবতারা। তাই দিনেই দেবতাদের পূজা করা শাস্ত্রের বিধান। অন্যদিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন দেবতাদের রাত। দক্ষিণায়ন অর্থ বিষুবরেখা থেকে সূর্যের ক্রমশ দক্ষিণে গমন। সূর্যের এই গমনকালের ব্যাপ্তি ছয় মাস। দক্ষিণায়নের ছয় মাস দেবতাদের এক রাতের সমান। স্বাভাবিকভাবেই এই সময় দেবতারা ঘুমান। সেকারণেই রাতে পূজার বিধান নেই শাস্ত্রে। শরৎকাল দক্ষিণায়নের সময়। দেবতাদের রাত্রিকাল। তাই শরৎকাল পূজার্চনার উপযুক্ত কাল নয় - ‘অকাল’। অকালে দেবতার পূজা করতে হলে তাঁকে জাগরিত করতে হয়। জাগরণের এই প্রক্রিয়াটিই হলো ‘বোধন’।

এই অকালে শ্রীরামচন্দ্র অশুভ শক্তির প্রতীক রাবণ রাজাকে পরাজিত করতে শক্তি সঞ্চারে মায়ের পূজা করেছিলেন। তাই এই পূজাকে অকালবোধন আবার উক্ত সময়টি শরৎকাল তাই শারদীয়া পূজা বলা হয়ে থাকে।

বাংলার মাটিতে যেভাবে দুর্গাপূজার গুরুত্ব রয়েছে, ঠিক সেভাবেই মহালয়াও পালিত হয় ব্যাপক আড়ম্বরে। বাংলায় সবাই মহালয়ার জন্য অপেক্ষা করেন কারণ এখানে দেবী দুর্গাকে কন্যা রূপে মানা হয়। এই দিনে দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরি করা হয়, তার চোখ আঁকা হয় এবং প্রতিমাসহ মণ্ডপ সাজানো হয়। দেবী দুর্গার প্রতিমা তৈরির কারিগররা আগে থেকেই কাজ শুরু করলেও মহালয়ার দিন প্রতিমাকে চূড়ান্ত রূপ দেন। আর এটাই প্রথা হয়ে আসছে বহু যুগ ধরে। মহালয়ার দিনে পিতৃপক্ষ শেষ হয় এবং এই দিন থেকে দেবীপক্ষ শুরু হয়।

দানমহাভারতের আখ্যান মতে, কর্ণ কুন্তী পুত্র হয়েও নিয়তির খেলাতে নিজের অজ্ঞাতেই তিনি দুর্যোধনের সবচেয়ে কাছের বন্ধুতে পরিণত হন। বীরত্বের পাশাপাশি তিনি দাতা হিসেবে অদ্বিতীয় হয়ে ওঠেন। তার কাছে কিছু চেয়ে বিমুখ হয়নি কখনো কেউ। সোনা-দানা, মণিমাণিক্য যে যা চেয়েছে তাই দিয়েছেন তিনি। এমনকি নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় সুরক্ষা অভেদ্য কবচকুণ্ডলও তিনি অবলীলায় হাসিমুখে দান করেছেন।

কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে কর্ণ নিহত হন। তবে পুণ্যময় কাজের পরিণামে স্থান পান স্বর্গে। নরলোকে যে পরিমাণ সম্পদ তিনি দান করেছিলেন তার সহস্রগুণ ফিরে আসে তাঁর কাছে। স্বর্ণ-সম্পদের বিপুল বৈভবের নিচে তিনি যেন চাপা পড়ে যান। তবুও দুঃখী তিনি। সব পাচ্ছেন তিনি কিন্তু পাচ্ছেন না খাদ্য। এই যন্ত্রণা তাকে অস্থির করে তোলে। ক্ষুধায় তৃষ্ণায় কাতর কর্ণ যান যমরাজের কাছে। ক্ষুব্ধ কণ্ঠেই বলেন, এ কেমন বিচার!অফুরন্ত স্বর্ণ রত্ন তিনি পাচ্ছেন, কিন্তু সেসব তো খাদ্য নয়। ক্ষুধার অন্ন নয়। কাজেই সোনা দানার তাঁর দরকার নেই। দরকার খাদ্য। কর্ণের এই জিজ্ঞাসার মুখে যমরাজ কিছুটা বিব্রত কণ্ঠেই বলেন, এর আমি কী করব? নরলোকে মানুষ যা দান করে, পরলোকে এসে তাই কয়েক সহস্রগুণ ফিরে পান। সমস্যার সমাধানে যমরাজ তখন কর্ণকে ব্রহ্মার কাছে পাঠালেন। ব্রহ্মা কর্ণকে উপায় বলে  দিলেন নরলোকে ফিরে যাও এবং অন্নদান কর। ব্রহ্মার কথামত কর্ণ এই মহালয়ার দিনে নরলোকে ফিরে এসে অন্ন,খাদ্য় ও জল দান করে পুনঃরায় পরলোকে ফিরে যান।

এই জন্যই মহালয়ার পুন্যলগ্নে মর্ত্যবাসী তাদের পূর্বপুরুষের আত্মার তৃপ্তির জন্য তিল, আতপ চাল,জল ও তুলসী পাতা নিবেদন করা হয়।


0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN