অন্যান্য কালী পুজোর মতোই এই কালীর পুজোও মহাসমারোহে আয়োজিত হয়। কিন্তু রটন্তী কালীর উৎপত্তি কীভাবে? কী বলছে পুরাণ? শাস্ত্র কী বলে? রটন্তী কালীর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বৃন্দাবনলীলার কী সম্পর্ক? আজ জানব সেই বিষয়ে।
রটন্তী কালী নাম কেন?
রটন্তী শব্দটি এসেছে ‘রটনা’ শব্দ থেকে। যার অর্থ কোনও কিছু রটে যাওয়া বা প্রচারিত হওয়া। কথিত আছে, এই দিনেই মা দূর্গার উগ্রকেশী করাল রূপ মা কালীর দেবীমাহাত্ম্য ত্রিলোকজুড়ে রটে গিয়েছিল। তবে রটনার নেপথ্যে আরও একটি তত্ত্ব খাঁড়া করা হয়। সেই তত্ত্বের সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছেন মহাভারতের অন্যতম নায়ক দেবকীপুত্র শ্রীকৃষ্ণ। মাঘ মাসের চতুর্দশী তিথিতে এই পুজো হয়। অমাবস্যা তিথির একদিন আগে এই পুজো অনুষ্ঠিত হয়। রটন্তী কালীপুজোর এটাই মাহাত্ম্য।
'রটন্তী' শব্দটি এসেছে 'রটনা' শব্দ থেকে। যার অর্থ প্রচার হওয়া। মনে করা হয়, এই বিশেষ দিনেই দেবীর মহিমা চতুর্দিকে রটে যায়। মা দূর্গার উগ্রকেশী মুক্তকেশী মায়ের মহিমা এই এই তিথিতেই সর্বস্তরে রটিত হয়ে থাকে। আবার প্রচলিত লোক কথা অনুসারে শোনা যায়,এদিনই দেবী ছিন্নমস্তার আবির্ভাব হয়েছিল। দেবী পার্বতী তার সহচরীদের ক্ষিদে মেটানোর জন্যে নিজ মুন্ডচ্ছেদ করে ত্রিধারায় রক্ত বারি প্রকট করেছিলেন ও ক্ষুদা নিবারণ করেছিলেন।
অন্য় একটি মতে- কথিত আছে, মাঘ চতুর্দশীতে অন্ধকারে শ্রীকৃষ্ণের বাঁশি শুনে শ্রীরাধা বিচলিত হয়ে ওঠেন। সব ভুলে গৃহ ত্যাগ করে তিনি ছুটে যান শ্রীকৃষ্ণের কাছে। শ্রীরাধার শাশুড়ি এবং ননদ ছিলেন সুযোগের অপেক্ষায়। শ্রীকৃষ্ণ ও শ্রী রাধাকে একত্রে হাতেনাতে ধরে আয়ান ঘোষের কাছে ছোট করবে। তাঁরা কুঞ্জবনে শ্রীকৃষ্ণের সঙ্গে শ্রীরাধাকে কাছাকাছি আসতে দেখেন। আয়ান ঘোষকে এই দৃশ্য দেখানোর জন্য় তাঁকে ডাকলেন তাঁরা। আদি শক্তির উপাসক আয়ান ঘোষ গেলেন কুঞ্জবনে । অন্তর্যামী শ্রীকৃষ্ণ সব কিছু বুঝতে পেরে নিজেকে মা দূর্গার উগ্রকেশী করাল রূপী মুর্তিতে বদলে ফেলেন। আয়ান ঘোষ দেখলেন, আরাধ্যা মা কালী গাছের আড়ালে দাঁড়িয়ে শ্রীরাধাকে উষ্ণ আলিঙ্গনে জড়িয়ে রেখেছেন। আর এই দৃশ্য় দেখার পর আয়ান ঘোষ বাক্ রুদ্ধ হয়ে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন । তখন রাধার সম্মান আরও বেড়ে গেল তাঁর কাছে। তিনি এ সংবাদ রটিয়ে দিলেন সব জায়গায়। সেখান থেকেই রটন্তী কালীপুজোর প্রচলন বলে অনেকের বিশ্বাস। তাই বৈষ্ণবদের কাছেও এটি একটি বিশেষ তিথি। সব কালী পুজো অমাবস্য়াতে হলেও রটন্তী কালী পুজো হয় চতুর্দশীতে।
বিশ্বাস অনুযায়ী, যাদের জীবনে দাম্পত্য কলহ রয়েছে, কিংবা যারা কোনও অবাঞ্ছিত কারণে দাম্পত্য সুখ পাননি বা যাদের সদ্য প্রেমে বিচ্ছেদ হয়েছে,তারা এই সময় রটন্তী কালীর আরাধনার মাধ্যমে নিশ্চিত ভাবে তাঁদের মনোবাসনা পুরণ করতে পারেন।