গণেশ চতুর্থীতে ভুলেও চাঁদ দেখা উচিত নয়—এটি পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী অমঙ্গল ও কলঙ্কের কারণ হতে পারে বলে মনে করা হয়।। গণেশ চতুর্থীর রাতে চাঁদ দেখলে মানুষের জীবনে নেমে আসে মিথ্যা কলঙ্ক, সমাজ তাকে মিথ্যা অপবাদ দেয়, জীবনে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়। কিন্ত আপনারা কি জানেন এর পৌরাণিক ও শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা কী? শাস্ত্রে কেন গণেশ চতুর্থীতে চাঁদের দিকে তাকাতে নিষেধ করেছে? আজ জানাব সেই কাহিনী।
ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্দশীতে জন্মদিন উপলক্ষে ভগবান গণেশকে কুবের নিমন্ত্রণ করে। নিমন্ত্রণ উপলক্ষ্যে কুবেরের বাড়ি গিয়ে প্রচুর মোদক খেয়ে ফেলেন। প্রচুর মোদক খেয়ে ইঁদুর চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন গণেশ। এমন সময় পথের মধ্যে একটি সাপ দেখে ইঁদুরটি ভয় পেয়ে কাঁপতে থাকে, জীবন বাঁচাতে দৌড়ে সরে যায়। আর এর ফলে গণেশ হুমড়ি খেয়ে মাটিতে পড়ে যান। স্থুলকায় শরীর ও অতিরিক্ত ভোজনের কারণে তাঁর পেট ফেটে মোদকগুলো মাটিতে ছড়িয়ে পড়ে। আকাশে থেকে চন্দ্রদেব (চাঁদ) এই ঘটনা দেখে উচ্চস্বরে হেসে উপহাস ও ব্যঙ্গ করেন গণেশকে। এই ঘটনায় গণেশ খুব ব্যথিত হন। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে গণেশ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে, ভাদ্র মাসের শুক্লপক্ষের চতুর্থীতে যে ব্যক্তি চাঁদের মুখ দেখবে, তাকে জীবনে তীব্র অসম্মান, অপবাদ ও মিথ্যা চুরির কলঙ্কের বোঝা বইতে হবে।
অন্যের বিপদ দেখে কাউকে উপহাস করতে নেই, চন্দ্রদেব নিজের এই ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। চন্দ্রের কাকুতি মিনতিতে গণেশ তাঁর অভিশাপ কিছুটা শিথিল করেন। তবে তিনি সতর্ক করেন,ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর রাতে চাঁদের দিকে তাকালে এই অভিশার কার্যকরী হবে। তবে এই তিথিটি বাদ দিয়ে বছরের অন্য যে কোনো চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখা যাবে। আর ভুলবশত কেউ যদি ভাদ্র মাসের শুক্লা চতুর্থীর দিনে চাঁদ দেখে ফেললে, স্যমন্তক মণি চুরি এবং শ্রীকৃষ্ণের কলঙ্ক মোচনের কাহিনি শুনলে অথবা গণেশের পৌরাণিক ব্রতকথা শুনলে সেই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।