ডেটিং মানেই কি আর ‘চলো দেখা যাক কী হয়’? আজকের প্রজন্মের কাছে এই অনিশ্চয়তার জায়গা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। জেনারেশন জেড বা জেন জি ডেটিংয়ের দুনিয়ায় নিয়ে এসেছে এক নতুন ট্রেন্ড... ‘হার্ডবলিং’। যেখানে লুকোছাপা, ইঙ্গিত বা নাটকের কোনও জায়গা নেই। সম্পর্কের শুরুতেই সোজাসাপটা কথা... এই হল নতুন দস্তুর।
হার্ডবলিং বলতে বোঝায়, ডেটিংয়ের প্রথম দিকেই নিজের চাওয়া-পাওয়া পরিষ্কার করে বলা। সম্পর্কটা সিরিয়াস হবে না কি ক্যাজুয়াল, ভবিষ্যতে বিয়ের ভাবনা আছে কি না, লং ডিস্ট্যান্সে স্বচ্ছন্দ কি না... সব প্রশ্নের উত্তর শুরুতেই টেবিলে রাখা। আগের প্রজন্ম যেখানে মাসের পর মাস এসব এড়িয়ে যেত, সেখানে জেন জি বিশ্বাস করে, দেরি করলে কষ্টটাই বাড়ে।
এই প্রবণতা কেন এত জনপ্রিয় হচ্ছে? কারণ, অনিশ্চয়তা মানেই মানসিক চাপ। প্রত্যাশা পূরণ না হলে হতাশা, অবিশ্বাস আর ব্রেক-আপের যন্ত্রণা... সব মিলিয়ে সম্পর্ক হয়ে ওঠে ক্লান্তিকর। হার্ডবলিং সেই ঝুঁকিটা কমায়। সঙ্গীর মন বোঝার জন্য আন্দাজের ওপর ভরসা না করে সরাসরি প্রশ্ন করাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছে তরুণ প্রজন্ম।
ডেটিং অ্যাপেও এর স্পষ্ট ছাপ। অনেকের বায়োতেই লেখা থাকছে... ‘নো ক্যাজুয়াল ডেটিং’, ‘ম্যারেজ মাইন্ডসেট’, ‘ক্লিয়ার ইনটেনশনস অনলি’। আগে যা রুক্ষ বা বেশি দাবি বলে মনে হত, এখন সেটাই পরিণত মানসিকতার পরিচয়। সময় নষ্ট না করে সত্যিটা বলাই যেন নতুন শিষ্টাচার।
অবশ্য সমালোচনাও আছে। অনেকের মতে, সম্পর্কের শুরুতেই এত হিসেব কষলে রোম্যান্স হারিয়ে যায়। কিন্তু জেন জি-র যুক্তি উল্টো। তাদের মতে, মিথ্যে আশা বা অস্পষ্টতার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা প্রেম টেকসই নয়। স্বচ্ছতা থাকলে আস্থা বাড়ে, আর সেই আস্থার ওপরই গড়ে ওঠে গভীর সম্পর্ক।