Calcutta Television Network

যুদ্ধ, অর্থ আর যৌনতা—রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কৌশল নিয়ে কেন এত বিতর্ক?

যুদ্ধ, অর্থ আর যৌনতা—রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউক্রেনের কৌশল নিয়ে কেন এত বিতর্ক?
14 September 2026 03:10:17 pm

রাশিয়ার সঙ্গে দীর্ঘ যুদ্ধের কারণে ইউক্রেনের অর্থনীতিতে চাপ বেড়েছে প্রবলভাবে। এহেন পরিস্থিতিতে রাজস্ব বৃদ্ধি করতে এবার একেবারে অন্যরকম প্রস্তাব উঠে এসেছে দেশটির সংসদে। পর্নোগ্রাফি বা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি বিভিন্ন কনটেন্টকে অপরাধের আওতা থেকে সরিয়ে এনে আইনি কাঠামোর মধ্যে স্থাপন করার কথা ভাবা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই শিল্প থেকে কর আদায় করে যুদ্ধের খরচের একটি অংশ মেটানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রতিবেদনে দাবী করা হয়েছে, এ সংক্রান্ত একটি বিল ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফার ভোটে ইতিমধ্যেই অনুমোদন পেয়েছে, এখন সেটি দ্বিতীয় দফার আলোচনার প্রতীক্ষায়।

বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা এবং সংসদের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াকের বক্তব্য, প্রাপ্তবয়স্কদের কনটেন্টের ব্যবসাকে করের আওতায় আনা গেলে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার অতিরিক্ত আয় ঘরে আসতে পারে সরকারের। যুদ্ধ চালাতে ইউক্রেনের যে বিপুল পরিমান অর্থ প্রয়োজন, তার তুলনায় এই অঙ্ক আদতেই এমন কিছু বড় নয়। তবে সেই টাকা দিয়ে সামরিক ড্রোনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনা সম্ভব বলে মনে করছেন এই আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবের সমর্থকেরা। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, এই রাজস্ব দিয়ে বছরে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনার অর্থ জোগাড় হতে পারে। বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি বা তা ছড়িয়ে দেওয়ার উপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। অপরাধ প্রমাণিত হলে সাত বছর পর্যন্ত জেলও হতে পারে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের কনটেন্ট তৈরির কাজ দেশে যথেষ্ট বড় আকার ধারণ করেছে। ‘অনলিফ্যানস’-এর তথ্য বলছে, ২০২৩ সালে প্রায় ৭,৯০০ ইউক্রেনীয় নির্মাতা ওই প্ল্যাটফর্ম থেকে মোট ১৩ কোটি ১০ লক্ষ ডলারের বেশি অর্থ উপার্জন করেছেন। এখানেই তৈরি হয়েছে অদ্ভুত সমস্যা।

কনটেন্ট নির্মাতারা নিজেদের উপার্জনের উপর কর দিতে গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি সংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার বিবিধ আশঙ্কা থাকে। আবার আয় গোপন করলে কর ফাঁকির অভিযোগও উঠতে পারে। তাই জেলেজনিয়াক এই পরিস্থিতিকে ‘ট্র্যাজিকমিক’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে, এই আইনি অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে পুলিশি হয়রানি ও ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও বারবার সামনে এসেছে। ইউক্রেনের কয়েকটি অঞ্চলে অ্যাডাল্ট কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিয়মিত ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। স্বিতলানা ভোরনিকোভা নামে এক কনটেন্ট নির্মাতা প্রেসিডেন্ট ভোলোদিমির জেলেনস্কির ওয়েবসাইটে করা আবেদনে স্পষ্টত দাবি করেন, তিনি প্রায় ৯ লক্ষ ডলার কর দেওয়ার পরও তাঁর বাড়িতে পুলিশ অহেতুক তল্লাশি চালায়। তাঁর বক্তব্য, ওই অর্থই দেশের যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা যেত। আবেদনে দ্রুত ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষের সমর্থন পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে সংসদের সবার নজরে আসে। বিলের পক্ষে থাকা সাংসদদের যুক্তি, প্রাপ্তবয়স্কদের সম্মতিতে তৈরি এই ধরনের কনটেন্টকে অপরাধ হিসেবে দেখার বদলে কিছুটা নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আনা উচিত। এতে প্রশাসনের সময় ও অর্থ বাঁচবে, কর আদায় বাড়বে এবং বেআইনি লেনদেন ও ঘুষের সুযোগও হ্রাস পেতে পারে। এখন দ্বিতীয় দফার ভোটে বিলটি কী পরিণতি পায়, সেটাই দেখার অপেক্ষায়।

×
  • CTVN