Calcutta Television Network

সমুদ্র গ্রাস করবে বাঙালির সাধের কলকাতাকেও, ভারতের বাণিজ্য-রাজধানী মুম্বই-এর ঠিকানাও হতে পারে আরব সাগরের নিচে!

সমুদ্র গ্রাস করবে বাঙালির সাধের কলকাতাকেও, ভারতের বাণিজ্য-রাজধানী মুম্বই-এর ঠিকানাও হতে পারে আরব সাগরের নিচে!

4 September 2026 , 02:32:29 pm

আচ্ছা ধরুন একদিন সকালে উঠে আপনি জানলা খুলেই দেখলেন, যেদিকে চোখ যাচ্ছে সেদিকে শুধুই জল। খবরের চ্যানেল চালাতেই, টিভির পর্দায় ভেসে উঠলো জলে ডুবে যাওয়া পাঁচ মাথার মোড়, অনেকটা সেই ২০১২ সিনেমার মত। অবাক হচ্ছেন? ভাবছেন এ আবার হয় নাকি! কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। রাষ্ট্র সংঘের সাম্প্রতিক একটি রিপোর্ট ভয় ধরাতে পারে আমার, আপনার, আপামর উপকূলবর্তী শহর গুলিতে থাকা লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের। মাত্রারিক্ত দূষণ ও জলবায়ুর পরিবর্তন অচিরেই বিপর্যয়ের সামনে দাঁড় করিয়েছে মুম্বাই, কলকাতা সহ ঢাকার মত শহরকে। কয়েক দশকের মধ্যেই জলের তলায় চলে যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে থাকা এই শহরগুলি সহ বিশ্বের অনেক বড় বড় শহর। 


রাষ্ট্রসংঘের 'চ্যালেঞ্জেস রিলেটেড টু সি লেভেল রাইজ অ্যান্ড ওয়েজ অ্যান্ড অ্যাপ্রোচেস টু অ্যাড্রেস ইট' সংক্রান্ত নয়া রিপোর্টে তেমনই আশঙ্কা প্রকাশ করা হল। যেখানে স্পষ্ট সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া সমুদ্রের জলস্তর, এই শহর গুলির লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি, ভিটেমাটি হারানোর 'তাৎক্ষণিক ঝুঁকি'-তে রয়েছে। অর্থাৎ সমূহ বিপদের একদম দোরগোড়ায় এসে পৌঁছে এই শহর গুলি। এর আগেও  ২০১৯ সালে, নিউ জার্সির ক্লাইমেট সেন্ট্রাল সংস্থার গবেষণা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে সমুদ্রের জলস্তরের মাত্রা এতটাই বৃদ্ধি পাবে যে, তার ফলে আনুমানিক ১৫ কোটি বাসিন্দার বাসস্থান বিশ্বের উপকূলবর্তী শহরগুলি পাকাপাকি ভাবে জলের নীচে চলে যাবে। জলস্তর বৃদ্ধির ফলে সমুদ্র গ্রাস করবে বাঙালির সাধের কলকাতাকেও, ভারতের বাণিজ্য-রাজধানী মুম্বই-এর ঠিকানাও হতে পারে আরব সাগরের নিচে। বহুদিন ধরেই এই উপকূলীয় শহর গুলি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থাতেই ছিল, সময়ের সাথে তা আরও পরিণত হয়েছে। 


ঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র বদ্বীপের নিচু এলাকায় অবস্থিত কলকাতা শুধু সমুদ্রের জল বাড়ার কারণে নয়, বরং 'ল্যান্ড সাবসিডেন্স' বা শহরের মাটি নিচে বসে যাওয়ার কারণেও তীব্র সংকটে পড়েছে। মাত্রাতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন এবং জলাভূমি ভরাট করে যত্রতত্র বহুতল নির্মাণের ফলে শহরের মাটি ধীরে ধীরে হয়ে পড়ছে ভঙ্গুর। ফলে বর্ষার সামান্য বৃষ্টি বা জোয়ারের জলের সাধারণ জলস্তর হঠাৎ হঠাৎ করেই সৃষ্টি করছে 'ওয়াটার লগ'-এর। আরব সাগরের পাড়ে গড়ে ওঠা বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়ের অধিকাংশ এলাকাই সমুদ্রের থেকে পুনরুদ্ধার করা নিচু জমি। ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিক জোয়ার (High Tide) এবং প্রবল বর্ষণের ফলে সমুদ্রের জল ঢুকে অচল করে দিচ্ছে মায়া নগরীকে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্টে দেখা গেছে যে, ২০১৪ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী সমুদ্রের জলস্তর বার্ষিক ৪.৭ মিলিমিটার হারে বাড়লেও, ২০২৪ সালে তা একলাফে রেকর্ড ৫.৯ মিলিমিটারে পৌঁছায়। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে শক্তিশালী 'এল নিনো'-র প্রভাবে সমুদ্রের জল অত্যধিক উত্তপ্ত হয়ে ওঠার ফলে এই গতি আরও বেড়েছে । এমনকী ২০২৪ সালে কয়েকটি জায়গায় এত দ্রুত হারে সমুদ্রের জলস্তর বৃদ্ধি পেয়েছে, তা গত ৪,৫০০ বছরের থেকেও বেশি। দক্ষিণ এশিয়ার নিচু বদ্বীপ অঞ্চলে অবস্থিত কলকাতা, মুম্বাই এবং প্রতিবেশী দেশের শহর ঢাকার প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষেরও বেশি মানুষ কেবল এই স্থায়ী জলমগ্নতার কারণে বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই বিপদের অর্থ এই নয় যে আগামী কয়েক বছরেই শহর দুটি রাতারাতি জলের তলায় সম্পূর্ণ তলিয়ে যাবে। বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি সতর্কবার্তা। রাষ্ট্রপুঞ্জের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত আন্তরঃরাষ্ট্রীয় প্যানেল (আইপিসিসি) প্রকাশিত রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, বিশ্বের কার্বন নির্গমন মাত্রা অনিয়ন্ত্রিত থাকলে ২১০০ সালের মধ্যে সারা বিশ্বে সমুদ্রের জলস্তর অন্তত ১ মিটার বৃদ্ধি পাবে, তলিয়ে যাবে বিশ্বের অধিকাংশ সমুদ্র বন্দর, তাতে নাম থেকে যাবে আমাদের কলকাতারও।  

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN