Calcutta Television Network

মানুষের সঙ্গে পোষ্যের ভালোবাসার গল্প ‘ওহ্ মাই ডগ’

মানুষের সঙ্গে পোষ্যের ভালোবাসার গল্প ‘ওহ্ মাই ডগ’

10 August 2026 , 04:06:58 pm

মানুষ ও পোষ্যের সম্পর্ক যে কতটা গভীর হতে পারে, তা অনেক সময় কাছ থেকে না দেখলে বোঝা কঠিন। সেই আবেগ, বন্ধুত্ব এবং নিঃশর্ত টানকেই কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে পরিচালক অমিত রাইয়ের নতুন ছবি ‘ওহ্ মাই ডগ’। ছবির গল্পে যেমন রয়েছে একটি শিশুর তার প্রিয় পোষ্যের প্রতি ভালোবাসা, তেমনই রয়েছে এক সারমেয়র তার মানুষের জন্য অসম্ভবকে সম্ভব করার চেষ্টা। ফলে আবেগের পাশাপাশি রহস্য ও উত্তেজনাও জায়গা করে নিয়েছে ছবিতে।

গল্প এগিয়েছে অসম ও বিহার— এই দুই ভিন্ন জায়গাকে কেন্দ্র করে। অসমের কিশোর অপু পড়াশোনার ফাঁকে হঠাৎ জানতে পারে, তার আদরের কুকুর মোমো বাড়ি থেকে উধাও হয়ে গিয়েছে। মায়ের সঙ্গে সে পুলিশের কাছে যায়। প্রথমে খুব একটা আগ্রহ না দেখালেও শেষ পর্যন্ত তদন্ত শুরু করে পুলিশ। মোমোর কী হল, তাকে কেউ নিয়ে গেল কি না, এই প্রশ্নই ধীরে ধীরে অপুর মনে ভয় এবং দুশ্চিন্তা তৈরি করে। প্রিয় পোষ্যকে খুঁজে বের করতে সে নিজের মতো করে চেষ্টা চালিয়ে যায়। পাশে পায় তার শিক্ষিকাকেও। অন্যদিকে বিহারে এক নির্মাণ সংস্থায় কাজ করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় কিশোর প্রিন্স। তার খোঁজে বেরিয়ে পড়ে তার প্রিয় কুকুর অস্কার। প্রিন্সকে খুঁজতে গিয়ে অস্কার এমন একটি অপরাধচক্রের সন্ধান পায়, যার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বেআইনি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের কারবার। অস্কারের এই অনুসন্ধানের সঙ্গে পরে যুক্ত হন স্থানীয় এক শিক্ষক এবং প্রিন্সের পরিচিত মানুষজন।

ছবির অন্যতম আকর্ষণ অস্কার চরিত্রটি। তার শারীরিক সমস্যা রয়েছে, কিন্তু সেই সীমাবদ্ধতা তার সাহস বা নিষ্ঠাকে থামাতে পারে না। প্রিয় মানুষটির সন্ধানে তার নিরন্তর চেষ্টা ছবির আবেগকে আরও গভীর করেছে। এই চরিত্রের মধ্য দিয়েই পরিচালক দেখাতে চেয়েছেন, ভালোবাসার ক্ষেত্রে প্রাণীও কতটা বিশ্বস্ত এবং সাহসী হতে পারে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও বেশ কয়েকজন নজর কেড়েছেন। পঙ্কজ ত্রিপাঠী স্থানীয় কুকুরপ্রেমী শিক্ষকের চরিত্রে স্বচ্ছন্দ। অপুর শিক্ষিকার ভূমিকায় সুলক্ষণা বড়ুয়াকেও সুন্দর মানিয়েছে। অভিজ্ঞ পুলিশ অফিসারের চরিত্রে পবন মালহোত্রা সাবলীল। অপুর চরিত্রে মাহি রাইয়ের অভিনয়ও গল্পের আবেগকে ধরে রেখে এগিয়ে যায়।

প্রায় আড়াইশোটি কুকুরকে নিয়ে ছবির শুটিং করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। সেই জায়গা থেকে পরিচালকের প্রচেষ্টা যথেষ্টই প্রশংসনীয়। ছোটদের ছবির সরলতা এবং পারিবারিক আবেগের সঙ্গে রহস্যের মিশেলও ছবিটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।

তবে ছবির কিছু দুর্বলতাও রয়েছে। বেশ কিছু দৃশ্য আরও সংক্ষিপ্ত করা যেত। চিত্রনাট্যে কিছুটা সম্পাদনা করলে গল্পের গতি আরও বাড়ত। কয়েকটি জায়গায় অতিরিক্ত আবেগ এবং সহজভাবে বিষয় উপস্থাপনের প্রবণতাও চোখে পড়ে।

সব মিলিয়ে ‘ওহ্ মাই ডগ’ মানুষের সঙ্গে প্রাণীর সম্পর্ককে নতুন করে অনুভব করার সুযোগ দেয়। বাণিজ্যিক হিসাবের বাইরে এমন একটি আবেগনির্ভর গল্প বলার চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে। ২০২৬ সালের উল্লেখযোগ্য ছবিগুলির তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার মতো সম্ভাবনা রয়েছে এই ছবির।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN