Calcutta Television Network

বারবার ভূমিকম্প, বারবার বিপর্যয়! লাতিন আমেরিকার মাটির নিচে কী রহস্য?

বারবার ভূমিকম্প, বারবার বিপর্যয়! লাতিন আমেরিকার মাটির নিচে কী রহস্য?

21 August 2026 , 05:28:09 pm

সুদূর কলম্বিয়া। ফুটবলের দেশ, গ্যাব্রিয়েল গার্সিয়া মারকুয়েজের দেশ, সিমন বলিভারের দেশ, আবার ভূমিকম্পেরও দেশ। লাতিন আমেরিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম অংশে প্রায়ই মাটির নীচে তৈরি হয় কম্পন। এর প্রধান কারণ পৃথিবীর ভূত্বকের নীচে থাকা টেকটনিক পাতগুলির নড়াচড়া। পাতগুলি একে অপরের দিকে এগিয়ে আসা, দূরে সরে যাওয়া কিংবা পাশাপাশি ঘষা খাওয়ার সময় জমে থাকা শক্তি হঠাৎ বেরিয়ে আসে। তখনই কেঁপে ওঠে মাটি। কলম্বিয়ায় ভূমিকম্প নতুন কোনও ঘটনা নয়। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, সেখানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৮০টি কম্পন যন্ত্রে ধরা পড়ে। মাসে এই সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তবে এর অধিকাংশই এতটাই মৃদু যে সাধারণ মানুষ তা টের পান না। কলম্বিয়ার ভূমিকম্পপ্রবণতার পিছনে রয়েছে একাধিক ভূত্বকীয় পাতের অবস্থান। নাজকা, দক্ষিণ আমেরিকান এবং ক্যারিবিয়ান পাতের গতিবিধি এই অঞ্চলের ভূপ্রকৃতিতে বড় প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে নাজকা পাতটি দক্ষিণ আমেরিকান পাতের নীচে ঢুকে যাওয়ার কারণে পশ্চিম উপকূলে দীর্ঘদিন ধরেই ভূমিকম্পের প্রবণতা দেখা যায়। এই একই প্রক্রিয়া আন্দিজ পর্বতমালা তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। শুধু কলম্বিয়া নয়, চিলি, পেরু, ইকুয়েডর থেকে শুরু করে মধ্য আমেরিকা এবং মেক্সিকো পর্যন্ত প্রশান্ত মহাসাগর ঘেঁষা বিস্তীর্ণ এলাকায় একই ধরনের ভূতাত্ত্বিক পরিস্থিতি রয়েছে। সমুদ্রের নীচে থাকা একটি পাত যখন অন্য পাতের তলায় ঢুকে যায়, তখন প্রচুর চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ কোনও এক সময় মুক্তি পেলেই ঘটে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

ভেনেজুয়েলাও একই কারণে ঝুঁকির বাইরে নয়। সেখানে ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ আমেরিকান পাতের মধ্যে ক্রমাগত নড়াচড়া চলছে। কোথাও কোথাও দুটি পাত পাশাপাশি ঘষটে এগোয়। আবার কোনও অংশে দীর্ঘদিন আটকে থাকার পরে জমে থাকা চাপ আচমকা মুক্তি পায়। এই ধরনের গতিবিধি থেকে তৈরি হতে পারে ‘স্ট্রাইক-স্লিপ’ ধরনের ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা অবশ্য শুধু কম্পনের শক্তির উপর নির্ভর করে না। একটি দেশের বাড়িঘরের নির্মাণ কতটা মজবুত, শহর কতটা ঘনবসতিপূর্ণ এবং বিপর্যয় মোকাবিলার পরিকাঠামো কেমন—তার উপরও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই নির্ভরশীল। অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় দুর্বল নির্মাণের কারণে তুলনামূলক কম শক্তিশালী কম্পনেও বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। দক্ষিণ আমেরিকার পাশাপাশি প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের দেশগুলিও ভূমিকম্পের জন্য পরিচিত। জাপান, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং আমেরিকার পশ্চিম উপকূল এই সক্রিয় ভূমিকম্প বলয়ের মধ্যে পড়ে। পৃথিবীর অধিকাংশ শক্তিশালী ভূমিকম্প এই বিস্তৃত অঞ্চলের আশপাশে ঘটে। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের কারণ এবং গতিপ্রকৃতি বোঝার জন্য নিয়মিত গবেষণা চালালেও এখনও নির্দিষ্ট করে আগে থেকে এটি বলা সম্ভব নয়। ঠিক কখন কোথায় কত মাত্রার ভূমিকম্প হবে, তা অনুধাবন করার অবিরত প্রয়াস আজও চালিয়ে যাচ্ছেন গবেষকরা। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শক্তিশালী নির্মাণ, দ্রুত উদ্ধার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ানোই ক্ষয়ক্ষতি কমানোর অন্যতম উপায়।

0 0 0

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে সমর্থন করেন?

Note:"আপনার তথ্যের গোপনীয়তা আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি বিশ্লেষণধর্মী কথোপকথন এবং এখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য সংরক্ষণ বা প্রকাশ করা হবে না"
×
  • CTVN