সূর্যের আয়ু চিরকালীন নয়। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ কোটি বছর পর তার জ্বালানি শেষের পথে যাবে। তখন সূর্যের আকার বহুগুণ বেড়ে ‘লাল দৈত্যে’ পরিণত হতে পারে। সেই সময় পৃথিবীর সমুদ্র শুকিয়ে যেতে পারে, নষ্ট হতে পারে বায়ুমণ্ডলও। এমনকি সূর্যের বিস্তৃত বহিরাবরণে পৃথিবী ঢুকে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। পরবর্তী পর্যায়ে সূর্য ছোট, অত্যন্ত ঘন এক শ্বেত বামনে পরিণত হবে। তখন তার আলো ও উষ্ণতা অনেকটাই কমে যাবে। তবে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা একেবারে আশাহীন নন। তাঁদের একটি গবেষণায় এমন কিছু পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, যা শুনলে অনেকটা কল্পবিজ্ঞানের গল্পের মতো মনে হতে পারে। গবেষকদের ধারণা, প্রয়োজনে অন্য কোনও গ্রহে পাড়ি না দিয়েও পৃথিবীকে দীর্ঘ সময় বসবাসের উপযোগী রাখা সম্ভব। এর জন্য প্রথমেই সূর্যের তাপ কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। বিজ্ঞানীদের প্রস্তাব, সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে মহাকর্ষের বিশেষ ভারসাম্যের জায়গা ‘ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ১’-এ একটি বিশাল পর্দার মতো কাঠামো তৈরি করা যেতে পারে। সেটি সূর্যের আলো অনেকটাই আটকে দেবে। চাঁদ এবং বামন গ্রহ সেরেস থেকে প্রয়োজনীয় অ্যালুমিনিয়াম ও কার্বন সংগ্রহ করে এই কাঠামো তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে বিজ্ঞানীদের।
সূর্যের আলো কমে গেলে পৃথিবীর জন্য বিকল্প শক্তির উৎস প্রয়োজন হবে। সেই ক্ষেত্রে বৃহস্পতির মতো গ্যাসীয় গ্রহের উপাদান কাজে লাগানোর কথা বলেছেন গবেষকেরা। বৃহস্পতির গভীরে বিশেষ ফিউশন যন্ত্র বসিয়ে হাইড্রোজেন ও হিলিয়াম থেকে শক্তি উৎপাদন করা যেতে পারে। সেই শক্তি পৃথিবীতে আলো ও তাপ সরবরাহে ব্যবহার করা সম্ভব বলে তাঁদের মত। আরও একটি বড় সমস্যা হতে পারে পৃথিবীর কক্ষপথ। সূর্যের পরিবর্তনের সঙ্গে পৃথিবী বিপদের মুখে পড়লে কোনও গ্রহাণুর মহাকর্ষ কাজে লাগিয়ে তার কক্ষপথ বদলানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রয়োজনে শক্তিশালী কণারশ্মি ব্যবহার করেও পৃথিবীকে ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়ার কথা ভাবা হয়েছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ ভূতাত্ত্বিক কার্যকলাপ থেমে গেলেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। বিশাল গর্ত তৈরি করে গভীরে গলিত লোহা পৌঁছে দিয়ে পৃথিবীর পাতের গতিশীলতা ফেরানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছেন গবেষকেরা। অবশ্য এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় এখনও বহু দূরে। বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসভ্যতার সামনে আপাতত এমন কোনও বিপদ নেই। তাই ভবিষ্যতের সেই অন্ধকার সময় নিয়ে চিন্তার বদলে বর্তমান পৃথিবীকেই রক্ষা করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বৈজ্ঞানিকরা।