এক বছর একটু মেপে চলতে হবে। সোনা কেনায় লাগাম পড়াতে হবে। পেট্রল-ডিজেলও মেপে খরচ করতে হবে। প্রয়োজনে আবার 'ওয়ার্ক ফর্ম হোম' করতে হবে বলেও আগাম সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু আচমকা কেন এই ...
এক বছর একটু মেপে চলতে হবে। সোনা কেনায় লাগাম পড়াতে হবে। পেট্রল-ডিজেলও মেপে খরচ করতে হবে। প্রয়োজনে আবার 'ওয়ার্ক ফর্ম হোম' করতে হবে বলেও আগাম সতর্ক করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু আচমকা কেন এই পদক্ষেপের কথা বললেন তিনি? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিদেশ থেকে সোনা আমদানি করতে যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয় কেন্দ্রীয় সরকারের, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাতেই রাশ টানতে চাইছে নয়া দিল্লি।
সূত্রের খবর, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার ৭৭৯ কোটি ৪০ লক্ষ মার্কিন ডলার থেকে কমে গিয়েছে। যা ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৭৪ হাজার কোটি টাকা। তার ফলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডার এখন হয়েছে দেশে ৬৯,০৬৯ কোটি ৩০ লক্ষ মার্কিন ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৬৫ লক্ষ ২৪ হাজার কোটি টাকা। এমতাবস্থায় আগে থেকেই দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে কেন এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে বললেন প্রধানমন্ত্রী? জানা যাচ্ছে, প্রতি বছর এ দেশের মানুষ ৭০০ থেকে ৮০০ টন সোনা কেনেন। কিন্তু ভারতে সোনা মেলে মাত্র এক থেকে দু'টন। ফলে প্রয়োজনের ৯০ শতাংশ সোনা আমদানি করতে হয় বিদেশ থেকেই। অন্যদিকে এত সোনা আমদানি করা হলেও তার প্রভাব দেশের শিল্পোৎপাদনে পড়ে না। তাই এই পরিস্থিতিতে বাইরের দেশ থেকে সোনা আমদানি করায় দেশের অর্থনীতিতে চাপ পড়ছে। একইভাবে তেল আমদানিতেও প্রভাব পড়ছে।
এমতাবস্থা প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ, যত বড় অনুষ্ঠানই হোক না কেন, এক বছর সোনা কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে। তাঁর কথায়, '“সোনা কেনাতেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়। এক সময়ে সঙ্কটময় পরিস্থিতি বা যুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি হলে লোকে দেশহিতে সোনা দান করে দিত। এখন দান করার দরকার নেই। কিন্তু এক বছর বাড়িতে যাই অনুষ্ঠান হোক, আমরা সোনার গয়না কিনব না— দেশহিতে আমাদের এই সঙ্কল্প করতে হবে। আমরা সোনা কিনব না, বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে হবে।'
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ আবহে মোদীর এই অনুরোধ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, বিদেশ থেকে তুলনায় কম প্রয়োজনীয় পণ্য, সোনা আমদানিতে লাগাম পরানো দরকার। তা হলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে চাপ কিছুটা কমবে।