নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অবশেষে 'শাপমুক্তি'। ইতিহাস গড়ে ফের বিশ্বজয়ী হল ভারত। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় বার ট্রফি জিতল দেশ। সব মিলিয়ে তৃতীয় বার টি-টো...
নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অবশেষে 'শাপমুক্তি'। ইতিহাস গড়ে ফের বিশ্বজয়ী হল ভারত। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডকে ৯৭ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় বার ট্রফি জিতল দেশ। সব মিলিয়ে তৃতীয় বার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এল ভারতের ঘরে। প্রথমে ২০২৪-এর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, পরে ২০২৫-এর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির। এরপর গতকাল রাতে বিশ্বকাপ জয়।
প্রায় আড়াই বছর আগে এই স্টেডিয়াম থেকেই এক বুক দুঃখ আর জেদ নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল রোহিত-ভিরাট'রা। তারপর শুরু হয়েছিল অপেক্ষা। সেরার শিরোপা পাওয়ার অপেক্ষা আর জোরদার লড়াই। অবশেষে রবিবার রাতে সেই অপেক্ষা আর দুঃখে প্রলেপ দিল দেশের ছেলের। ইতিহাস গড়ল সেই আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামেই। আর সেই মাঠে দাঁড়িয়েই অভিষেক-সঞ্জু-বুমরাহদের আনন্দ-উচ্ছাস দেখেলন গত দু'বারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বজয়ী অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি, রোহিত শর্মা।
রবিবার সন্ধ্যায় খেলাটা একটু অন্য ধাঁচে শুরু করেছিল সঞ্জু-অভিষেকরা। একটু সাবধানী হয়ে হালকা চালে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন অভিষেক। জেকব ডাফির ওভারে দু’টো চার মারলেন ঠিকই, তবে ততটাও আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। কিন্তু পরের ওভারে লকি ফার্গুসনের বলে সজোরে ছক্কা হাঁকাতেই যেন ব্যাটে আত্মবিশ্বাস ফিরে এল। তারপর তো বলে বলে ছক্কা! ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি। প্রথম ৬ ওভারে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৯২।
একইভাবে শুরুটা ধীরেসুস্থে করলেও পরে মাঠ দাপিয়ে খেলেছিলেন সঞ্জু। ৪৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলেন। ৮টা ছক্কা ও ৫টা চারে সাজানো তাঁর ইনিংস। কিন্তু এদিনও সেঞ্চুরি পেলেন না। অনিবডি খেলেন ঈশান কিষানও। ২৫ বলে ৫৪ রান করে আউট হন তিনি।
এরপর খেলা তখন মধ্যগগনে। মাঠে নামেন বুমরাহ। নিজের প্রথম ওভারেই রাচীন রবীন্দ্রর উইকেট তুলে নেন। এরপর নিউজিল্যান্ড পাওয়ার প্লে’তে ওঠে ৩ উইকেটে হারিয়ে মাত্র ৫২ রান ঝুলিতে নিয়ে। ভারত দু’টো ক্যাচ ফেলল ঠিকই, কিন্তু অসাধারণ ক্যাচ ধরে কাজের কাজটাও করে দিল। তবে উইকেটের বেশিরভাগ কৃতিত্ব অবশ্যই ঈশান কিষানকে দিতে হয়। বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ ধরে ভারসাম্য সামলে বল আকাশে ছুড়ে ফের তালুবন্দি করেন। আর মুহূর্ত টুকুর মধ্যে অনেকেরই পিলে চমকে যাওয়ার অবস্থা হয়েছিল।
সব মিলিয়ে এবার আর নরেন্দ্র মোদীর স্টেডিয়াম হতাশ করেনি ভারতকে। স্লোগানে, গানে, সমর্থনে মাতিয়ে রাখলেন ক্রিকেটারদের। ১ লক্ষ ৩২ হাজার জনতা ঘুচিয়ে দিলেন প্রায় আড়াই বছর ধরে আহমেদাবাদের স্টেডিয়ামের মনে জমিয়ে রাখা যন্ত্রণা। এর আগে টানা তিনবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আর কোনও দেশ জেতেনি। টানা দু’বারও নয়। দেশের মাটিতে দাঁড়িয়েই দেশের পতাকা কাঁধে তুলে নিলেন হার্দিক'রা।