নির্বাচন কমিশনের নামে নালিশ শুনতে-শুনতে তিতিবিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। এমতাবস্থায়, এই নিয়ে পর-পর তিনবার রাজ্যের আইনজীবীকে কড়া ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।সূত্রপাতরাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ...
নির্বাচন কমিশনের নামে নালিশ শুনতে-শুনতে তিতিবিরক্ত সুপ্রিম কোর্ট। এমতাবস্থায়, এই নিয়ে পর-পর তিনবার রাজ্যের আইনজীবীকে কড়া ভর্ৎসনা করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।
সূত্রপাত
রাজ্য ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার অভাবে এক নজিরবিহীন নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যে সব নাম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তার নিষ্পত্তি করবেন নিম্ন আদালতের বিচারকরা। এমতাবস্থায়, হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সব পক্ষকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করেন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ দিতে শুরু করে নির্বাচন কমিশন। এই পরিস্থিতিতে, সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে হাজির হয়ে কপিল সিব্বাল অভিযোগ করেন, কমিশন বিচারকদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে, তাই কমিশনের মতোই কাজ করছেন (এবং করবেন) বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। কপিলের এই অভিযোগে সেদিন রীতিমতো বিরক্ত হন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। এবং রাজ্যের উদ্দেশে পাল্টা প্রশ্ন করেন, কমিশন প্রশিক্ষণ দেবে না তো আর কে দেবে? কার্যত ভর্ৎসনা করে তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর ছাড়াও আরও অনেক বিষয় শুনতে হয় তাঁদের, তাই বারবার এই নিয়ে যেন বিরক্ত না-করা হয়।
কপিলের পর মেনকা
এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টের প্রথম সারির আইনজীবী কপিল সিব্বালকেও খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছিল সপ্তাহখানেক আগে। সোমবার, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এসআইআর নিয়ে মেনশন করতে দেখা গেল তৃণমূলের রাজ্যসভার প্রার্থী ওই আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামীকে।
মেনকা: আমাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে.. নথিপত্র রেকর্ডে নেওয়া হয়নি। এরা হলেন নির্বাচক। তারা আগে ভোট দিয়েছিলেন এবং এখন তাদের নথিপত্র নেওয়া হয়নি..
সিজিআই সূর্য কান্ত: কিন্তু এই পরিস্থিতিতে আমরা বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারি না...
মেনকা: ধারা ২৩ এবং ২৪ দেখায় যে আপিল মিথ্যা। যদি এটি ট্যাগ করা যায়।
সিজিআই সূর্য কান্ত: পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া আমাদের কি আর কিছু করার আছে, না নেই?
মঙ্গলবার শুনানি
এদিন ফের এই মামলার শুনানি হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রাজ্যের আইনজীবীকে কড়া ধমক দিয়ে কার্যত একই কথা বলেন, "বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের উপর আস্থা রয়েছে আমাদের, তাঁরা ভালো কাজ করছেন, তাঁদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলবেন না। বৈধ ভোটারদের নিশ্চয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে"।
হাতে রইল ট্রাইবুনাল
সুপ্রিম কোর্ট এদিন রাজ্যকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, চাইলে ট্রাইবুনাল গঠন করা যেতে পারে। উচ্চ আদালতের বিচারক ও অবসরপ্রাপ্ত বিচারক সেই ট্রাইবুনালের সদস্য হবেন। বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ থাকলে ওই ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হওয়া যাবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ট্রাইবুনাল আদতে সান্ত্বনা পুরস্কার ছাড়া আর কিছুই নয়।