সম্প্রতি ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। 'বন্ধু' পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করে মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের আবহে বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারত একদমই ...
সম্প্রতি ভারত সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। 'বন্ধু' পুতিনের ভূয়সী প্রশংসা করে মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, যুদ্ধের আবহে বা যুদ্ধের ক্ষেত্রে ভারত একদমই নিরপেক্ষ নয়। অবশ্যই শান্তির পক্ষে।' সেই সঙ্গে হায়দরাবাদ হাউসে মোদীর সঙ্গে বৈঠক করে পুতিন জানিয়েছেন, 'আমি বলছি মস্কো-নয়াদিল্লির সম্পর্ক বরাবরই ভালো ছিল, আছে এবং থাকবে।' সূত্রের খবর, পুতিনের ভারত সফরের সময়েই নয়াদিল্লি এবং মস্কোর যৌথ বিবৃতি, 'রাশিয়ার তৈরি বেশিরভাগ অস্ত্রশস্ত্র, সামরিক ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম যা আছে সেসব রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে যে প্রযুক্তির প্রয়োজন এমনকি যে সমস্ত পার্টসের দরকার এবার থেকে তা তৈরি করবে ভারত। দুই দেশই এমন পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে সম্মত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
সম্প্রতি এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন বলেছেন, 'মোদীর সঙ্গে আমার বরাবরই খুবই বিশ্বস্ত ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল, আছে এবং থাকবেও। ভারত সত্যিই খুবই ভাগ্যবান। কারণ নরেন্দ্র মোদীর মতন একজন নেতাকে পেয়েছে ভারত। আগামী দিনে ভারত-রাশিয়া সম্পর্ক আরও মজবুত হবে। জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী যে সমস্ত অস্ত্র ব্যবহার করে তার বেশিরভাগই পুতিনের দেশ অর্থাৎ রাশিয়ার তৈরি। সেই ক্ষেত্রে ভারতীয় সেনাবাহিনীর একাংশের বরাবর অভিযোগ ছিল, 'রাশিয়ার তৈরি অস্ত্র রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে যে প্রযুক্তির প্রয়োজন তা এতদিন ভারতে ছিল না। ওই দেশ থেকেই আনা হত। যার জন্য দীর্ঘ সময় লাগত। তবে এবার থেকে সেই সমস্যার সমাধান ঘটবে বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য যে যে প্রযুক্তির প্রয়োজন এমনকি যে সমস্ত পার্টসের দরকার তা তৈরি করবে ভারত।
প্রসঙ্গত, দু'দিনের সফরে ভারতের মাটিতে পা রেখেছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। গত বৃহস্পতিবারই পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে পুতিনের বিশেষ বিমান। লাল কার্পেট বিছিয়ে রাজকীয়ভাবে স্বাগত জানান হয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে। বিমানবন্দরে পুতিনকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও অন্যান্য নেতৃত্বরা। বিমানবন্দর থেকে নেমেই 'বন্ধু' মোদীকে জড়িয়ে ধরেন পুতিন। শুক্রবারই রাত ৯ টার সময় মস্কোর উদ্দেশে ভ্লাদিমির পুতিন রওনা দিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।