ত্রিমুখী যুদ্ধে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্য। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। বিগত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালী 'স্তব্ধ' থাকায় বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার প...
ত্রিমুখী যুদ্ধে জর্জরিত মধ্যপ্রাচ্য। ভয়াবহ এই পরিস্থিতিতে লাফিয়ে বাড়তে শুরু করেছে জ্বালানি তেলের দাম। বিগত কয়েকদিন ধরে হরমুজ প্রণালী 'স্তব্ধ' থাকায় বর্তমানে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ১১০ ডলার পার করেছে। শেষ ২০২০ সালে এমন অস্বাভাবিক দাম বেড়েছিল জ্বালানি তেলের। যদিও ভারত সরকারের তরফে তেল কেনার বিকল্প রাস্তা তৈরি আছে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে দেশবাসীকে। তবে দিন দিন ইরান-ইজরায়েল ও আমেরিকা যেভাবে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখতে শুরু করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম সূত্রে দাবি, সোমবার সকালে এশিয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়ে ১১৪.৭৪ ডলারে পৌঁছেছে। অন্যদিকে, নাইমেক্স লাইট সুইটের দাম ২৬ শতাংশের বেশি বেড়ে ১১৪.৭৮ ডলার হয়েছে। এমতাবস্থায় জ্বালানি তেলে খুব শীঘ্রই ব্যারেল পিছু ১৫০ ডলার পেরিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে নয়া দিল্লির তরফে জানান হয়েছে, বিশ্ব বাজারে তেলের দাম বাড়লেও তার বিশেষ প্রভাব ভারতে পড়বে না। পেট্রল-জিজেলের দাম বাড়বে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
এই সবকিছুর মধ্যেই অন্য হিসেব কষছে কূটনৈতিক মহল। তাদের মতে, যুদ্ধ যদি বেশিদিন স্থায়ী হয় তেলের দাম সমস্ত রেকর্ডকে ছাপিয়ে যাবে। তেলের দাম বাড়লে তেল বিপণন সংস্থাগুলি পেট্রোল এবং ডিজেলের দাম বাড়ানোর জন্য চাপ তৈরি করবে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ব্যয়বহুল হবে পরিবহন ক্ষেত্র। যার জেরে বাড়তে পারে বিমান ও পণ্য পরিবহণের খরচও। এমনকি রং, টায়ার, রাসায়নিক কারখানাতেও এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। উদ্ভুত এই পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেলের ভারসাম্য বজায় রাখতে রাশিয়া থেকে ব্যাপক পরিমাণ তেল আমদানি শুরু করেছে ভারত। আগামী দিনে সেই পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলেও মনে করা হচ্ছে।