রাজ্যের সরকারি কর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব প্রথম কিস্তিতে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ শোধ করতে হবে বলে তৃণমূল সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া মেটাতে পারেনি রাজ্য...
রাজ্যের সরকারি কর্মীদের যত দ্রুত সম্ভব প্রথম কিস্তিতে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ শোধ করতে হবে বলে তৃণমূল সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু পর্যাপ্ত সময় পেরিয়ে গেলেও সেই বকেয়া মেটাতে পারেনি রাজ্য সরকার। এবার এই মহার্ঘ ভাতা মেটানোর জন্য আরও অতিরিক্ত সময় বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে শীর্ষ আদালতে রিপোর্ট জমা দিল রাজ্য। কারণ হিসাবে, প্রযুক্তিগত, প্রশাসনিক জটিলতার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয় সামনে আসার পরেই আগামী ১৩ মার্চ রাজ্য জুড়ে সরকারি অফিসগুলিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতানেত্রীরা।
দীর্ঘদিন আগেই রাজ্য সরকারি কর্মীদের বকেয়া ডিএ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাই কোর্ট। পরে সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য। সেখানেও বকেয়া ২৫ শতাংশ মিটিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তার জন্য বেঁধে দেওয়া হয়েছিল ৬ সপ্তাহ সময়। কিন্তু নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বকেয়া মেটাতে পারেনি রাজ্য। বরং সুপ্রিম কোর্টের কাছে অতিরিক্ত ৬ মাস সময় চাওয়া হয়েছিল। এরপর গত বছরের সেপ্টেম্বরে শেষ হয়ে ডিএ মামলার শুনানি। পরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বেঞ্চ সাফ জানান, ডিএ আইনি অধিকার, বকেয়া ডিএ রাজ্যকে শোধ করতেই হবে।
আদালতের তরফে স্পষ্ট জানান হয়, বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে শোধ করতে হবে রাজ্যকে। বাকি অংশ শোধ করার জন্য একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয় বিচারপতিদের বেঞ্চ। তবে সুপ্রিম রায় সত্ত্বেও এখনও ডিএ পাননি রাজ্য সরকারি কর্মীরা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ বাড়ছে সমস্ত কর্মীদের মধ্যে।
এমতাবস্থায় রাজ্য সরকারের তরফে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়, ডিএ দেওয়ার জন্য ৩ লক্ষ ১৭ হাজারে বেশি কর্মীর নথি যাচাই করতে হবে। ২০১৬ সালের আগে পর্যন্ত তাঁদের তথ্য ডিজিটাল নয়। বরং সার্ভিস বুক আকারে হাতে লেখা নথি রয়েছে। ফলে সেগুলি ডিজিটাইজ করতে সময় লাগবে। এর মধ্যেই SIR সংক্রান্ত জটিলতাও রয়েছে বলে আদালতে জানান হয়। তাই ডিএ বকেয়া পরিশোধে সময় প্রয়োজন বলে জানান হয়।