ভারতের শেয়ার বাজারে নেমে এল নজিরবিহীন ধস। ৯ মার্চ, ২০২৬-এই দিনটি বিনিয়োগকারীদের কাছে 'কালো সোমবার' হিসেবেই মনে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ভারতের পুঁজিবা...
ভারতের শেয়ার বাজারে নেমে এল নজিরবিহীন ধস। ৯ মার্চ, ২০২৬-এই দিনটি বিনিয়োগকারীদের কাছে 'কালো সোমবার' হিসেবেই মনে থাকবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে ভারতের পুঁজিবাজারে ব্যাপক বিক্রির চাপ তৈরি হয়েছে। তার জেরে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাজার থেকে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকার সম্পদ উধাও হয়ে গেছে।
লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই বাজারের সূচকগুলি দ্রুত নেমে যায়। BSE Sensex এক দিনে প্রায় ২৪০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে যায়। অন্যদিকে NSE নিফটি ৫০ ও ২৩,৭০০ স্তরের নিচে নেমে যায়। প্রায় সব সেক্টরেই বিক্রির চাপ দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধসের মূল কারণ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইজরায়েল-এর মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা। এই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৫ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভারত যেহেতু প্রায় ৮৫ শতাংশ তেল আমদানি করে, তাই তেলের দাম বাড়লে দেশের অর্থনীতিতেও তার প্রভাব পড়ে।
এই পতনের ধাক্কা শুধু বড় কোম্পানিগুলিতেই নয়, মাঝারি ও ছোট শেয়ারেও পড়েছে। মিডক্যাপ সূচক প্রায় ৪ শতাংশ এবং স্মলক্যাপ সূচক ৪.৫ শতাংশের বেশি পড়েছে। এমনকি ব্লু-চিপ কোম্পানি যেমন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ, এইচডিএফসি ব্যাংক এবং আইসিআইসিআই ব্যাংকের শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময় বিনিয়োগকারীরা সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে টাকা তুলে নিরাপদ বিনিয়োগে চলে যান। এর ফলে শেয়ার বাজারে হঠাৎ বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
তবে বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের ধস দীর্ঘমেয়াদে অনেক সময় বিনিয়োগের সুযোগও তৈরি করে। শক্তিশালী মৌলিক ভিত্তি থাকা কোম্পানির শেয়ার কম দামে পাওয়া গেলে ধাপে ধাপে বিনিয়োগ করা যেতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, পরিস্থিতি পুরোপুরি নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অবস্থার ওপর। যদি উত্তেজনা দ্রুত কমে, তবে ভারতীয় বাজারও ঘুরে দাঁড়াতে পারে। কারণ দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এখনও তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী।
শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ সবসময়ই বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। তাই কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।