এসআইআর আবহে এবার পূর্বস্থলীর ২ নম্বর ব্লকের মেড়তলা পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সন্তোষী দাসকে নিয়ে শোরগোল তুঙ্গে। গ্রামবাসীদের দাবি পঞ্চায়েত প্রধান ভারতীয় নন, বাংলাদেশি। প্রশাসন তাঁর নথি ...
এসআইআর আবহে এবার পূর্বস্থলীর ২ নম্বর ব্লকের মেড়তলা পঞ্চায়েতের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান সন্তোষী দাসকে নিয়ে শোরগোল তুঙ্গে। গ্রামবাসীদের দাবি পঞ্চায়েত প্রধান ভারতীয় নন, বাংলাদেশি। প্রশাসন তাঁর নথি যাচাই করুক। তাদের দাবি প্রধানের সমস্ত নথি সঠিক নয়, তিনি ভুয়ো নথি দেখিয়ে নির্বাচনে জিতে প্রধান হয়েছেন, ফলে প্রধানের নাগরিকত্ব নিয়ে এবার বড়সড় অভিযোগ তুলছে স্থানীয় গ্রামবাসীদের একাংশ।
গ্রামবাসীরা পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক ও কালনার মহকুমা শাসকের কাছে। তবে গ্রামবাসীদের এই অভিযোগ মানতে নারাজ পঞ্চায়েত প্রধান সন্তোষী দাস। তিনি দাবি করেছেন এই দেশেই জন্ম তাঁর এবং যেখানে অভিযোগ হয়েছে সেখানে গিয়ে প্রমান দেখাবেন তিনি। পূর্বস্থলী উত্তরের তৃনমূল বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায় ক্যামেরায় কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও মৌখিকভাবে জানিয়েছেন, প্রধানের সমস্ত নথি সঠিক।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুর চড়িয়েছে গেরুয়া শিবির। গ্রামবাসীদের সঙ্গে সহমত হয়ে বিজেপিও অভিযোগ করেছে প্রধান বাংলাদেশি। তার সব নথি জাল,ফলে তদন্ত হোয়া অত্যন্ত আবশ্যক। অন্যদিকে কালনার মহকুমা শাসক অহিংসা জৈন ফোনে অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান,প্রধানকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হবে। খতিয়ে দেখা হবে কি ডকুমেন্টস আছে বা নেই।
প্রসঙ্গত মেড়তলা পঞ্চায়েতের প্রধান সন্তোষী দাসের বাড়ি ওই পঞ্চায়েতেরই চণ্ডীপুর গ্রামে৷ গ্রামবাসীদের অভিযোগ, তিনি মুর্শিদাবাদ জেলার বেলডাঙা -২ ব্লকের আন্দুলবেড়িয়া থেকে রেশন কার্ড করেছিলেন । ভোটার কার্ডে তাঁর বাবা হিসাবে দেখানো হয়েছে মন্টু সরকারকে৷ কিন্তু রেশন কার্ডে পরিবারের প্রধান হিসাবে দেখানো হয়েছে পঙ্কজ বাড়ুইকে৷ তাদের আরও অভিযোগ রেশন কার্ডের তথ্য অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে তিনি ১২ বছর বয়সে রেশন কার্ড করেছেন৷ আর এখানেই সন্দেহ আরও দানা বাধে। তারপরই গ্রামবাসীরা মহকুমা প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। তাদের বক্তব্য প্রধানের এ দেশে জন্ম হলে, ১২ বছর বয়সে কিভাবে রেশন কার্ড করলেন তিনি?
এলাকাবাসীরা দাবি করেছেন তারা বেলডাঙা এলাকাতে খোঁজ নিয়ে দেখেছেন, রেশন কার্ডে দেওয়া ঠিকানাতে ওই নামে কেউই নেই৷ ফলে তাদের ধারণা বদ্ধমূল হয় যে পঞ্চায়েত প্রধান বাংলাদেশ থেকেই এদেশে এসেছিলেন৷ তাঁর স্বামী সহ শ্বশুড়বাড়ির লোকজনও ২০১০ সালের পর বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসেছেন৷ এখানে এসে ওই পঞ্চায়েত প্রধান নথি জাল করে এদেশে নির্বাচনে লড়েছিলেন। গ্রাববাসীদের আবেদন মুর্শিদাবাদ জেলায় ওই প্রধানের রেশন কার্ডের তথ্য নিয়ে তদন্ত করলেই সব রহস্যের উন্মোচন হবে৷
এখন দেখার হেয়ারিংয়ে প্রধান তথ্য পেশ করতে পারেন কিনা। ভোটের আগে পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগে স্বভবতই অস্বস্তিতে পূর্বস্থলীর ঘাসফুল শিবির।