সাম্প্রতিক সময়ে ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। মাঝে মাঝেই আফগানিস্তানের তালিবানদের সঙ্গে পাক সেনার সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসে। বেড়েছে আহত-নিহতের সংখ্যাও। তু...
সাম্প্রতিক সময়ে ডুরান্ড লাইনকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান-আফগানিস্তান সংঘাত বারবার সামনে এসেছে। মাঝে মাঝেই আফগানিস্তানের তালিবানদের সঙ্গে পাক সেনার সংঘর্ষের খবর প্রকাশ্যে আসে। বেড়েছে আহত-নিহতের সংখ্যাও। তুরস্ক-কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘর্ষবিরতি নিয়ে একাধিকবার বৈঠক হলেও তা একপ্রকার নিস্ফলা হয়েছে। এরই মাঝে ফের পাক-আফগান সংঘর্ষ। দুই দেশের সেনার গোলাগুলির ঘটনায় চারজন নিহত ও তিনজনের আহত হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।
সূত্রের খবর, শনিবার গভীর রাতে পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সেনাদের মধ্যে আচমকাই গোলাগুলি শুরু হয়। আফগানিস্তানের স্পিন বলডক অঞ্চলে এমন গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। যার ফলে ওই এলাকায় রীতিমত আতঙ্কের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাঞ্চল্য শুরু হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। প্রাণভয়ে তারা ওই এলাকা ছেড়ে চলে যেতে শুরু করে। তবে গোটা ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এমনকি তিনজন গুরুতর জখম হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
প্রসঙ্গত, চলতি বছরের অক্টোবরে আফগানিস্তানে পাক বিমান হানা ও তার পরবর্তী সীমান্ত সংঘর্ষ থামাতে উদ্যোগী হয়েছে কাবুল ও ইসলামাবাদ। সেই লক্ষ্যে পশ্চিম এশিয়ায় কয়েক দফা আলোচনাও হয়েছে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তালিবান নেতাদের মধ্যে। আফগানিস্তানের তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান ও বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীরা পাকিস্তানের উপর নজরদারি চালাচ্ছে বলে দাবি তোলা হয় বৈঠকে। একইসঙ্গে তালিবান নেতাদের কাছে টিটিপি'র বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার দাবিও তোলা হয় পাকিস্তানের তরফে।
পাশাপাশি কিছুদিন আগেই পাক প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ জানিয়েছেন, 'তৃতীয় দফার আলোচনায় সব কিছুই ঠিকঠাক ছিল। তুরস্ক-কাতার আমাদের অবস্থানকে সমর্থনও করেছিল। আফগানিস্তান যেমন একমত হয়েছিল তেমনই পাকিস্তানও একমত হয়েছিল। কিন্তু এই ক্ষেত্রে কেবল একটি 'না' সব কিছু ভেস্তে দিয়েছে। ওরা চেয়েছিলেন মৌখিক সম্মতিই একমাত্র গ্রহণযোগ্য হোক কিন্তু আন্তর্জাতিক স্তরের কোনও আলোচনায় লিখিত সম্মতিপত্র দরকার হয়। সেটাই কার্যকর হয়। এখানে সেটা হয়নি। লিখিত সম্মতিপত্রে স্বাক্ষর করতে রাজি না হওয়ার কারণেই গোটা শান্তি আলোচনা ভেস্তে গিয়েছে।'