এবার ভারতের অস্ত্র ভাঁড়ারে মজুত হতে চলেছে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক সংঘাতের মাঝেই এবার ক্ষেপণাস্ত্র 'জ্যাভলিন' কিনতে চলেছে ভারত। এই বিষয়ে গত বুধবারই সিলমোহর দিয়েছে মার্কিন প্রশ...
এবার ভারতের অস্ত্র ভাঁড়ারে মজুত হতে চলেছে আরও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র। ট্রাম্পের সঙ্গে শুল্ক সংঘাতের মাঝেই এবার ক্ষেপণাস্ত্র 'জ্যাভলিন' কিনতে চলেছে ভারত। এই বিষয়ে গত বুধবারই সিলমোহর দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। তবে এই বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে ভারত ও আমেরিকার মধ্যে কত টাকার চুক্তি হয়েছে জানেন? জানা যাচ্ছে, মার্কিন প্রশাসনের ডিফেন্স সিকিউরিটি কর্পোরেশন এজেন্সির তরফে দুটি আলাদা বিবৃতি জারি করা হয়েছে। সেখানে জানান হয়েছে, ৯২.৮ মিলিয়ান ডলারের ভারত-মার্কিন অস্ত্র-চুক্তি বাস্তবায়ন হতে চলেছে। অর্থাৎ ভারতীয় মূল্যে যা প্রায় ৮২৫ কোটি টাকা।
আগেই ভারতের বিদেশমন্ত্রকের তরফে এই অস্ত্র মজুত করার বিষয়ে জানান হয়েছিল। বলা হয়েছিল খুব শীঘ্রই ১২টি লঞ্চার এবং ১০৪টি ক্ষেপণাস্ত্র কিনতে চলেছে ভারত। আর সেই মতোই এবার দেশের 'ঢাল' মার্কিন অস্ত্র কেনার পথে পা বাড়িয়েছে নয়া দিল্লি। এই ক্ষেপণাস্ত্রেরই পোশাকি নাম 'এফজিএম-১৪৮ অ্যান্টি ট্যাঙ্ক জ্যাভলিন মিসাইল'। গত সাড়ে তিন বছরে রাশিয়া ইউক্রেনের যুদ্ধে একাধিকবার এই মার্কিন জ্যাভলিনের সামনে মাথা নোয়াতে হয়েছে পুতিনের ট্যাঙ্কার গুলিকে। ধ্বংস হয়েছে রাশিয়ার একের পর এক টি-৭২, টি-৯০ ট্যাঙ্ক।
ডিফেন্স সিকিউরিটি কর্পোরেশন এজেন্সির ওই বিবৃতিতে জানান হয়েছে ভারতের সঙ্গে তাঁদের ৪৫.৭ মিলিয়ান ডলারের চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির আওতায় থাকছে জ্যাভলিন এফজিএম-১৪৮ ক্ষেপণাস্ত্র, ২৫টি জ্যাভলিন লাইটওয়েট কমান্ড লঞ্চ ইউনিট অথবা জ্যাভলিন ব্লক ১ কমান্ড লঞ্চ ইউনিট। তারপর বাকি ১২টি লঞ্চার এবং ১০৪টি ক্ষেপণাস্ত্র আসবে ভারতের সেনাবাহিনীর হাতে।
জানা যাচ্ছে, যুদ্ধক্ষেত্রে এই জ্যাভিলিনের ব্যবহার জটিল হবে না। মাত্র একজন সৈনিক এটিকে ব্যবহার করতে পারবেন। ক্ষেপণাস্ত্রটির একটি লঞ্চার রয়েছে, যা কাঁধে নিয়ে লক্ষ্য ভেদ করা যাবে। একটি ‘জ্যাভলিন’-এর ওজন আনুমানিক ২৩ কেজি পর্যন্ত হবে। যা বহন করতে পারবে সাড়ে আট কেজি বিস্ফোরক। ২,৫০০ মিটার পাল্লার এই মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ধীর গতিতে ওড়া হেলিকপ্টার ধ্বংস করতেও সক্ষম হবে বলে জানা যায়। যদিও ভারতের তরফে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোন বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে এই চুক্তির মাধ্যমে ভারত ও আমেরিকার সম্পর্ক আরও মজবুত হবে বলেও আশা করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞেরা।