ইরানের তরফে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানান হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই দাবি অযৌক্তিক বলে ফের খারিজ করল তেহরান। সে দেশের সেনার শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কো...
ইরানের তরফে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানান হয়েছে বলে সম্প্রতি দাবি করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু সেই দাবি অযৌক্তিক বলে ফের খারিজ করল তেহরান। সে দেশের সেনার শীর্ষ কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, এমন কোনও 'আবেদন' ওয়াশিংটনের কাছে করেনি তাঁরা। যদিও ইরানের সেই দাবির পাল্টা বিবৃতি এখনও প্রকাশ করা হয়নি আমেরিকার তরফে। এমতাবস্থায় ইরান যুদ্ধে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল ওয়াশিংটন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম ইরানের উদ্দেশে বি-৫২ বোমারু যুদ্ধবিমান পাঠাল তারা। এই যুদ্ধবিমানের বৈশিষ্ট্য হল, এটি র্যাডারে ধরা পড়ে না। এবার ইরানের সামরিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরিকাঠামো টার্গেট করে এই বোমারু বিমান পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন বিমান বাহিনীর জেনারেল ড্যান কেইন।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী বন্ধে ক্রমেই বাড়ছে বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ। ইরানের হুঁশিয়ারির ভয়ে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় তিন হাজার তেল এবং গ্যাসবাহী বিভিন্ন দেশের জাহাজ আটকে রয়েছে সেখানে। একাধিক সংবাদ মাধ্যমের সূত্র অনুযায়ী, আটকে থাকা জাহাজ গুলোয় ২০ হাজারেরও বেশি নাবিক এবং কর্মী রয়েছেন। ফলে একদিকে যেমন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াচ্ছে জ্বালানি সমস্যা, তেমনই আটকে পড়া নাবিকদের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা বাড়ছে। দীর্ঘদিন ধরে হরমুজে আটকে থাকায় খাবার ও পানীয়ের সঙ্কটও তৈরি হচ্ছে জাহাজে।
এমতাবস্থায়, হরমুজ বন্ধ থাকায় চলতি এপ্রিল মাসে ইউরোপে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোল। তাঁর কথায়, 'তেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ইউরোপে এবার প্রভাব পড়বেই। এপ্রিল মাসে তেলের ক্ষতি মার্চের তুলনায় দ্বিগুণ হবে, তার সঙ্গে এলএনজি-র ক্ষতিও যুক্ত হবে। এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা হল জেট ফুয়েল ও ডিজেলের অভাব। এশিয়ার ইতিমধ্যেই তা লক্ষিত হয়েছে। আমার ধারণা, শীঘ্রই এপ্রিল বা মে মাসে, এই নেতিবাচক প্রভাব ইউরোপেও দেখা যাবে।'