"দেখুন, রাজ্য পুলিস নেই। বুথ ক্যাপচার করে রেখেছে সিএপিএফ"। ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ...
"দেখুন, রাজ্য পুলিস নেই। বুথ ক্যাপচার করে রেখেছে সিএপিএফ"। ভবানীপুর মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দিতে এসে সংবাদ মাধ্যমের সামনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, বিরোধী নেত্রী থেকে মমতার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সাক্ষী থেকেছে এই মিত্র স্কুল। এই বুথ তাঁর বহু উত্থান-পতন দেখেছে। বামজমানায় এই বুথে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসার পর তাঁকে রীতিমতো বিরোধী নেত্রীর মেজাজে বলতে শোনা গেছে: ছাপ্পা চলছে ভেতরে। সাংবাদিকদের এক প্রজন্ম থেকে পরের প্রজন্ম পর্যন্ত জেনে গেছে, মিত্র স্কুলে মমতা ভোট দিতে আসেন দুপুর গড়ানোর পর। কিন্তু, সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে তাঁকে ভবানীপুরের বুথে-বুথে ঘুরে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল শেষ কবে, তা মনে করতে পারছে না কোনও প্রজন্মই।
তাহলে কি এবার নিজের গড় ভবানীপুরের ভোটারদের পালস বুঝতে অসুবিধা হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের? বলা কঠিন। তবে পর্যবেক্ষকরা কেউ-কেউ বলছেন, হয়তো-বা পালস বুঝতে পেরেই তাঁকে এত উদভ্রান্ত-উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে এদিন।
এদিন সকাল থেকেই তাঁর নিশানায় ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশন। সকালে তাঁকে বলতে শোনা গেল, "বিজেপি যা বলছে তা-ই করছে। ইচ্ছে মতো কাজ করছে সিআরপিএফ। চক্রবেড়িয়ায় গিয়ে দেখে আসুন, আমাদের সব পোস্টার খুলে দিয়েছে। আদালতের নির্দেশ মানছে না। আমরা আদালত অবমাননার মামলা করেছি। বাইরে থেকে এসেছে পুলিস পর্যবেক্ষক। এভাবে ভোট হয়'?
দুপুর যত গড়াল, মমতার মেজাজও তত চড়ল। মিত্র স্কুল চত্বর থেকে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁকে বলতে শোনা গেল, "সিএপিএফদের তো সীমান্ত সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তার বদলে রাজনৈতিক দলকে সুরক্ষা দিচ্ছেন তারা। দেখুন, প্রতিটা বুথ ক্যাপচার করে রেখেছে সিএপিএফ। রাজ্য পুলিস নেই। এমন গণতন্ত্র আমি জীবনে দেখিনি"।
পর্যবেক্ষকরা অনেকেই মনে করছেন, এদিন কিন্তু মমতাকে দেখা গেল সেই বিরোধী নেত্রীর মেজাজে। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর গত ১৫ বছরে রাজ্যে লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচন হয়েছে বেশ কয়েকবার। কখনও এমন অনিশ্চিয়তা দেখা যায়নি তাঁর চোখেমুখে। এদিন আঙুলের সঙ্কেতে ভিক্ট্রি দেখালেন বটে তৃণমূল নেত্রী, তবে আগের মতো আত্মবিশ্বাস আর দেখা গেল না তাঁর শরীরী ভাষায় আর মুখের কথায়।