ইরান ও আমেরিকা সংঘাতে এবার নতুন শর্ত দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যখন ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত যখন থামার পথে এমনটা ভাবছিল দুনিয়া, ঠিক তখন আমেরিকার শর্তের পাল্টা ইরানের ১৫ দফা শর্তের সঙ্গে যোগ হল...
ইরান ও আমেরিকা সংঘাতে এবার নতুন শর্ত দিল ইরান। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যখন ইরান-ইজরায়েল-আমেরিকা সংঘাত যখন থামার পথে এমনটা ভাবছিল দুনিয়া, ঠিক তখন আমেরিকার শর্তের পাল্টা ইরানের ১৫ দফা শর্তের সঙ্গে যোগ হল আরও একটি। হরমুজ় প্রণালীর উপরে পূর্ণ কর্তৃত্ব চাইছে তারা। ইরানের দাবি, ওই জলপথের উপরে তাদের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দিতে হবে। এ বার আমেরিকার কাছে সেই শর্ত রাখল ইরান। প্রাথমিক ভাবে তেহরান যে শর্তগুলি রেখেছিল, তাতে এই দাবিটি ছিল না।
আমেরিকা এবং ইরানের যুদ্ধ থামানোর জন্য মধ্যস্থতার চেষ্টা চালাচ্ছে পাকিস্তান। আমেরিকার তরফে ১৫ দফা প্রস্তাব তারা ইতিমধ্যে পাঠিয়ে দিয়েছে ইরানের কাছে। কিন্তু এখনই আলোচনায় যেতে নারাজ তেহরান। আমেরিকা এই প্রস্তাব পাঠানোর আগে থেকেই ইরান তিন দফা শর্তের কথা বলে আসছিল। প্রথমত, ইরানকে তার ‘ন্যায্য অধিকার’ থেকে বঞ্চিত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, ইরানের যে লোকসান হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলকে এটি নিশ্চিত করতে হবে যে তারা আগামী দিনে ইরানে আর আক্রমণ করবে না। তবে হরমুজ় সংক্রান্ত কোনও শর্ত সেখানে ছিল না।
যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর থেকেই হরমুজ়কে দৃশ্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইরান। এখন ভারত-সহ কিছু বন্ধুদেশের জাহাজকে হরমুজ় পারাপার করতে দিচ্ছে তেহরান। এ অবস্থায় নতুন শর্ত ঘোষণা করে হরমুজ় নিয়ে ইরান নিজেদের অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করল বলেই মনে করছেন অনেকে। ব্লুমবার্গ ইকনমিক্সের পশ্চিম এশিয়া বিষয়ক প্রধান দিনা এসফান্দিয়ারি বলেন, “ইরান নিজেদের (হরমুজ়) কৌশলে কিছুটা অবাকই হয়েছে— আন্তর্জাতিক অর্থনীতিকে স্তব্ধ করে রাখা কতটা সস্তা এবং সহজ, তা বুঝতে পেরেছে ইরান। যুদ্ধ থেকে তারা এই শিক্ষাটি পেয়েছে এবং এই সুবিধাটিকে এ বার কাজে লাগাতে চাইছে।”
সিএনএন জানাচ্ছে, ইরানের এই নতুন শর্তের ফলে কী কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, সে দিকে নজর রাখছে আমেরিকাও। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও দু’দিন আগেই জানিয়েছেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরে হরমুজ়ে ‘টোল’ চালু করার চেষ্টা করতে পারে তেহরান। তবে এই ‘টোল’ ব্যবস্থা যে আমেরিকা মেনে নেবে না, তা-ও স্পষ্ট করে দিয়েছেন তিনি। ফ্রান্সে জি-৭ গোষ্ঠীর বৈঠক শেষে রুবিও বলেন, “এটি শুধু বেআইনিই নয়, এটি কখনওই মেনে নেওয়া যায় না। এটি গোটা বিশ্বের জন্যই বিপজ্জনক। এটি মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে একটি পরিকল্পনা থাকা দরকার।”