বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সদ্য শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। আর রাষ্ট্রের ভার তাঁর কাঁধে যাওয়া মাত্রই কড়া ভাষণ দিতে শোনা গেল তাঁকে। দলের সংসদ সদস্যদের জন্যেও বিশেষ বার্তা দিলে...
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সদ্য শপথ গ্রহণ করেছেন বিএনপি প্রধান তারেক রহমান। আর রাষ্ট্রের ভার তাঁর কাঁধে যাওয়া মাত্রই কড়া ভাষণ দিতে শোনা গেল তাঁকে। দলের সংসদ সদস্যদের জন্যেও বিশেষ বার্তা দিলেন জিয়া পুত্র। পাশাপাশি 'অনাচার সিন্ডিকেটের' বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়েছেন তিনি। এছাড়াও তারেকের প্রথম ভাষণে উল্লেখযোগ্যভাবে উঠে এসেছে দেশের 'অত্যাচারিত' সংখ্যালঘুদের ভবিষৎতও।
২১২ আসনে জিতে বাংলাদেশে ক্ষমতার শীর্ষে বসেছে বিএনপি সরকার। গত মঙ্গলবার নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন খালেদা পুত্র তারেক রহমান। বুধবার ছিল তাঁর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক। এরপরেই রাতে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন সে দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী। রমজান মাসে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন তিনি। বলেন, 'রমজানের পবিত্রতার স্বার্থে এই মাসটিকে আপনারা মুনাফা লাভের মাস হিসাবে পরিগণিত করবেন না। দ্রব্যমূল্য যাতে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে না-যায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।' একযোগে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও কড়া বার্তা দিয়ে তারেক বলেছেন, 'হাজারো প্রাণের বিনিময়ে মাফিয়া সিন্ডিকেটের পতন ঘটিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি। আমাদের সরকার জনগণের কাছে জবাবদিহি করবে। বিএনপি সকল ক্ষেত্রেই অনাচার, অনিয়মের সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে বদ্ধপরিকর।'
বস্তুত বাংলাদেশে হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূস প্রশাসনের আমলে সংখ্যালঘু অত্যাচার চরমে উঠেছিল সেখানে। একইসঙ্গে বেড়েছিল, খুন, নারী নির্যাতন-সহ একাধিক অপরাধমূলক কাজ। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই দেশের গণতন্ত্রের উপর থেকে ভরসা উঠতে শুরু করেছিল সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। এমতাবস্থায় বাংলাদেশে নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে বার্তা দেয় বিএনপি। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হিসাবে প্রথম ভাষণে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তাই শোনা যায় তারেকের গলায়। বলেন, 'মুসলমান, হিন্দু, খ্রিস্টান, দলমত-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে পাহাড়ে কিংবা সমতলে বসবাসকারী, এই দেশ আমাদের সকলের। তাই সকলের জন্যই বাংলাদেশকে আমরা একটি নিরাপদভূমিতে পরিণত করতে চাই।'
এরপরেই দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বিধি বেঁধে দিয়ে তারেক জানান,তাঁরা কেউ সরকারি সুবিধা নিয়ে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানি করতে পারবেন না। জমি সংক্রান্ত কোন সুবিধা নেবেন না। পাশাপাশি মন্ত্রিসভার বৈঠকেও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সর্বত্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক।