একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর 'ভোট-পরবর্তী হিংসা'য় খুন হন কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। এই খুনে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল থেকে শুরু করে পুলিস আধিকারিকদের নাম জড়িয়ে যায়। আদালতের নির্দে...
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর 'ভোট-পরবর্তী হিংসা'য় খুন হন কাঁকুড়গাছির বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার। এই খুনে স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল থেকে শুরু করে পুলিস আধিকারিকদের নাম জড়িয়ে যায়। আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে সিবিআই।
একুশ পেরিয়ে ছাব্বিশের বিধানসভা ভোট কড়া নাড়ছে দোরগোড়ায়। ভোটের নির্ঘণ্ট পর্যন্ত ঘোষণা করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অদ্যাবধি সেই মামলার চলছে। অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সেই মামলার অন্যতম সাক্ষী। আদালতের নির্দেশে সাক্ষীকে নিরাপত্তা দিতে সর্বক্ষণ বিশ্বজিতের বাড়িতে পুলিস প্রহরা থাকে। এমতাবস্থায়, বিশ্বজিতের অভিযোগ, "বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে আমার কথা চলছিল। খুব স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের প্রসঙ্গ উঠে আসছিল। সব হয়ে যাওয়ার পর, রাতের দিকে ওই পুলিস কর্মী টয়লেটের দিকে গেলে আমি বলি, আপনাদের জন্য অন্য টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। ব্যস, তারপরই নিজের সার্ভিস রিভলভার বার করে আমার দিকে তাক করেন তিনি। চিৎকার চেঁচামেচি শুনে পুলিসের অন্যরা ছুটে আসেন সেখানে। নিরস্ত করা হয় তাঁকে। তবে, হাতের কাছে যা পাওয়া যায়, তা ছুড়তে থাকেন তখন। জখম হন প্রহরারত অন্য এক পুলিসকর্মী"।
অভিজিতের সংযোজন, "তৃণমূল সম্পর্কে কোনও বিরূপ মন্তব্য শুনলেই ওই পুলিস কর্মী রেগে যেতেন। কাল যখন বন্দুক তাক করেন তিনি, তখন আর রাগ সামলাতে পারেননি তিনি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে কথা বলাতেই যে আমার বিরুদ্ধে রাগ, তা ওঁর মুখের কথাতেই স্পষ্ট হয়ে যায়"।
ওই ঘটনায় জখম এক পুলিস কর্মীর হাতে ক্রেপ ব্যান্ডেজ বাঁধা রয়েছে। অভিজিতের অভিযোগেই সিলমোহর দিয়ে তিনি বলেন, "চিৎকার চেঁচামেচি শুনে আমরা ছুটে আসি। (এই পুলিসকর্মী) যখন বন্দুক বার করে, তখন বলি, বন্দুকটা খেলার জিনিস নয়, ওটা যেখানে ছিল সেখানে রেখে দাও"।
গতকাল কাঁকুড়গাছির ঘটনার সঙ্গে বঙ্গ-রাজনীতির সাড়ে তিনদশক আগের একটি ঘটনার সঙ্গে মিল খুঁজে পাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। ১৯৯৩ সালে মহাকরণ অভিযানের দিন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে যখন বন্দুক তাক করেন এক পুলিস কর্তা, তখন নেত্রীর ব্যক্তিগত রক্ষী তথা কলকাতা পুলিসের কনস্টেবল পাল্টা বন্দুক উঁচিয়ে ধরেন। প্রসঙ্গত, বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়া ওই কনস্টেবল বামজমানা থেকে শুরু করে তৃণমূল জমানাতেও আর চাকরিতে ফিরতে পারেননি।