পশ্চিমবঙ্গে ভোট আবহে সমস্ত কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক! আগামী ২০ দিন পর্যন্ত সংস্থার সব কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সংস্থার এই সিদ্ধান্তের কথা ...
পশ্চিমবঙ্গে ভোট আবহে সমস্ত কাজ স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাক! আগামী ২০ দিন পর্যন্ত সংস্থার সব কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে খবর। সংস্থার এই সিদ্ধান্তের কথা কর্মীদের ইমেল মারফত জানান হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। মূলত আইনি 'বাধ্যবাধকতা'র কারণ উল্লেখ করেই ২০ দিনের সবেতন ছুটিতে পাঠান হয়েছে কর্মীদের। আগামী ১১-মে একটি বৈঠকের পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান হয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।
সংস্থার তরফে ওই ইমেলে জানান হয়েছে, 'আইনকে আমরা শ্রদ্ধা করি এবং গোটা প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করছি। নির্দিষ্ট সময়ে বিচার মিলবে, আমরা নিশ্চিত।' অন্যদিকে আইপ্যাকের এই সিদ্ধান্ত ভোটমুখে তৃণমূলকে বিপাকে ফেলতে পারে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ। কারণ আইপ্যাক যে লম্বা সময়ের 'বিরতি' নিচ্ছে, তা শেষ হতে হতে দু-দফার ভোট এবং নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হয়ে যাবে। ফলে শেষপর্যন্ত সংস্থার এই সিদ্ধান্ত তৃণমূলের ভোটব্যাংকে কোনও প্রভাব ফেলবে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হচ্ছে জল্পনা।
অন্যদিকে রাজ্যের শাসক দলের তরফে নয়া বিবৃতি প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে দাবি করা হয়েছে-আইপ্যাক তৃণমূলের এআইটিসি-র সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে যুক্ত রয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রাখছে। অর্থাৎ সংস্থার সাময়িক বিরতি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই দাবি করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি আইপ্যাকের কলকাতার দফতর এবং সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দিয়েছিল ইডি। তল্লাশি চলাকালীন খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে গিয়ে উপস্থিত হয়েছিলেন। অভিযোগ, বেশ কিছু নথি তিনি তল্লাশির মাঝপথে তুলে নিয়ে বেরিয়ে যান। যদিও তৃণমূল নেত্রীর পাল্টা অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপি। প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাকের দফতর থেকে তাঁর দলের নির্বাচন সংক্রান্ত পরিকল্পনা, গুরুত্বপূর্ণ এবং গোপন নথি 'চুরি' করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলেও দাবি করেছিলেন তিনি। পরে এই মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। এমতাবস্থায় রাজ্যে কাজ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিল আইপ্যাক।