৪মে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল। গিয়েছে মন্ত্রিত্ব, গদি, ক্ষমতা। এই অবস্থায় অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির কারণ খুঁজতে বৈঠক ডাকলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ...
৪মে বিজেপির কাছে ধরাশায়ী হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে তৃণমূল। গিয়েছে মন্ত্রিত্ব, গদি, ক্ষমতা। এই অবস্থায় অপ্রত্যাশিত ভরাডুবির কারণ খুঁজতে বৈঠক ডাকলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ১৪ মে কালীঘাটে নিজ বাসভবনে দলের সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন তিনি। সূত্রের খবর, ওই বৈঠক থেকেই পরবর্তী পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করবেন তিনি।
নির্বাচন নির্ঘন্ট প্রকাশ হওয়ার আগে থেকেই কোমর বেঁধে প্রচারে নেমেছিল তৃণমূল। হাতিয়ার ছিল SIR। কিন্তু ৪ তারিখ বেলার পর থেকে খেলা যে এমন ঘুরে যাবে তা কল্পনাতীত ছিল ঘাসফুল শিবিরের কাছে। ফল ঘোষণার দু-দিন আগেও ফেসবুকে একটি ভিডিয়ো বার্তা পোস্ট করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, ২২৬ আসন জিতে তাঁরাই ক্ষমতায় আসছে। কিন্তু ২২৬ তো দূরস্থ, ১০০-র ঘরও পেরোতে পারেনি তৃণমূল। অন্যদিকে বিজেপির কাছে লজ্জাজনক পরাজয়ের পরেও হার মানতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, তিনি হারেননি, হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এমতাবস্থায় আগামী ১৪ তারিখ দলের পরাজয়ের কারণ পর্যবেক্ষণ করতে একটি বৈঠকের আয়োজন করছে তৃণমূল। সেই বৈঠকে দলের সমস্ত শীর্ষ নেতৃত্বকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। মনে করা হচ্ছে ওই বৈঠক থেকেই ঘুরে দাঁড়ানোর কৌশল বাতলাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর আগেও দলের নেতৃত্বদের সঙ্গে নিয়ে কালীঘাটের বাড়িতে আলোচনা করেছিলেন তিনি। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কালীঘাটের দফতর থেকে বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের কাছে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের। মূলত দলকে পুনরায় চাঙ্গা করার বিষয়েই এখন জোর দিতে চাইছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
দলীয় সূত্রের আরও খবর, বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। প্রথমত, সাংগঠনিক দুর্বলতা কোথায় ছিল তার পর্যালোচনা। দ্বিতীয়ত, বুথ স্তরে নতুন করে সংগঠনকে সক্রিয় করা। তৃতীয়ত, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে কী ভাবে লাগাতার আন্দোলন গড়ে তোলা যায়, সেই পরিকল্পনা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। কারণ, ভোটে পরাজয়ের পর দলের কর্মী-সমর্থকদের একাংশের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে নেতাকর্মীদের নতুন বার্তা দিয়ে আবার লড়াইয়ের ময়দানে ফেরানোর চেষ্টাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে।