পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোমবার প্রায় ১১ ঘন্টা জেরা করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার সুজিতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হবে। তার আগ...
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে গ্রেফতার করেছে ইডি। সোমবার প্রায় ১১ ঘন্টা জেরা করার পর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। আজ, মঙ্গলবার সুজিতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হবে। তার আগে প্রাক্তন মন্ত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় বিধাননগর হাসপাতালে। সূত্রের খবর, আজ সুজিতকে ১০ দিনের হেফাজতের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানাবে ইডির আইনজীবী।
অন্যদিকে গোটা ঘটনাকে 'পলিটিক্যাল অ্যারেস্ট' বলে মন্তব্য করেছে সুজিতের ছেলে সমুদ্র বসু। তাঁর কথায়, 'পুরো নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সাক্ষী হিসেবে ডাকা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুকে। তাঁকেই গ্রেফতার করে নেওয়া হল। দেশের সংবিধান ও আদালতের প্রতি পূর্ণ আস্থা আছে। আদালত ন্যায় বিচার করবে। বিরোধী রাজনীতি করতে গেলে ভুগতে হবে। একই মামলায় আরেকজন তৃণমূল নেতার নামে অভিযোগ ছিল, তাপস রায়। কিন্তু তিনি বর্তমানে বিধায়ক। একই যাত্রার পৃথক ফল। এর জবাব আমরা আদালতে দেব। সত্যের জয় আইনের পথেই পাবো।'
গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় সিজিও-তে হাজিরা দেন সুজিত। প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে সুজিতকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত ১ মে ইডির দফতরে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। তবে ৪ মে, ভোটের ফলঘোষণার পরে সোমবারই প্রথম ইডির দফতরে হাজিরা দেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর ছেলে ও আইনজীবী।
ইডি সূত্রে খবর, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে দক্ষিণ দমদম পুরসভায় বেআইনি ভাবে চাকরিপ্রাপকদের নাম সুপারিশ করার ঘটনায় তাঁকে তলব করা হয়েছিল। ইডি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ওই তালিকায় কম বেশি ১৫০ জন চাকরিপ্রার্থীর নাম রয়েছে। তাঁদের নাম সুপারিশ করার বিনিময়ে সুজিত অন্যায্য সুবিধা নিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। এমতাবস্থায় দুর্নীতির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে গিয়েছে বলে মনে করছে ইডি। সেই জন্য একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই মামলাতে সোমবার রাত সওয়া ৯টা নাগাদ গ্রেফতার করা হয় বিধাননগর বিধানসভা কেন্দ্রের সদ্য-পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী সুজিতকে।