দস্যু মোহনের গল্পও হার মানবে! ঘরের মধ্যে খাট আর খাটের তলায় সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে খালপথে ডিঙি নৌকায় চেপে বসা। তারপর সোজা মাতলা নদীতে! হাওড়ায় শিবপুরের ঘিঞ্জি নিম্নবিত্ত এলাকায় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ ...
দস্যু মোহনের গল্পও হার মানবে! ঘরের মধ্যে খাট আর খাটের তলায় সুড়ঙ্গ। সেই সুড়ঙ্গ দিয়ে খালপথে ডিঙি নৌকায় চেপে বসা। তারপর সোজা মাতলা নদীতে!
হাওড়ায় শিবপুরের ঘিঞ্জি নিম্নবিত্ত এলাকায় তৃণমূল-ঘনিষ্ঠ এক অভিযুক্তের বাড়ির তলায় সুড়ঙ্গের খোঁজ পাওয়া গেছে সম্প্রতি। যা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। এমতাবস্থায়, গত বছর(২০২৪)-এর মাঝামাঝি কুলতলির কুখ্যাত দুষ্কৃতী ও রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী সাদ্দাম সর্দারের কথা মনে করাচ্ছেন পর্যবেক্ষকরা। সোনা প্রতারণায় নাম জড়িয়ে পড়ায় সাদ্দামকে গ্রেফতার করতে যায় বিশাল পুলিস বাহিনী। সাদ্দামের দলবল পুলিসের উপর চড়াও হয়। এবং, সেই সুযোগে সুড়ঙ্গ-পথ ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায় সাদ্দাম।
এরপরই সাদ্দামের রহস্যময় সুড়ঙ্গের কথা জানতে পারে পুলিস। সোনা প্রতারণার তদন্তে নেমে সুড়ঙ্গ-রহস্য উন্মোচন করে পুলিস বুঝতে পারে, এই সুড়ঙ্গ-পথ পরিত্যক্ত নয়,বরং তা হামেশাই ব্যবহার করা হয়। সোনার মূর্তি-র লোভ দেখিয়ে সম্ভাব্য ক্রেতাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে এসে ফাঁদে ফেলত সাদ্দাম। অভিযোগ, ওই ক্রেতার কাছ থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা নিয়ে তাকে মেরে ফেলে সুড়ঙ্গ-পথ দিয়ে 'লাশ পাচার' করে দিত সাদ্দাম-বাহিনী।
প্রসঙ্গত, তদন্তে নেমে সাদ্দামের প্রভাবশালী রাজনৈতিক যোগ পেয়েছিল পুলিস।
হাওড়ার শিবপুরে শামিম আহমেদ
হাওড়ার শিবপুরের চওড়া বস্তি এলাকার ঘিঞ্জি পাড়ায়, একেবারে হাড়-বের-করা ফ্ল্যাটবাড়ির ভিতর ঢুকে পুলিস তো হতবাক! বাইরে থেকে ওই ফ্ল্যাটবাড়িকে দেখে মনে হয় হতদরিদ্র কিছু মানুষের বোধহয় থাকেন সেখানে। কিন্তু কোনওভাবে অভিযুক্তের গ্রাউন্ড ফ্লোরে পৌঁছে কাঠের মেঝের তক্তা সরালেই অনুভব করা যায়: মায়া প্রপঞ্চময়। রীতিমতো দামি আসবাব পত্র, সোফা, চোখ ধাঁধানো 'ইন্টেরিয়র' বলতে যা বোঝায় আর কী! এবং, এখানেই শেষ নয়। কাঠের মেঝের তক্তা সরালেই উঁকি দেয় মহাসুড়ঙ্গ!
প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত শামিম আহমেদের তৃণমূল-যোগ এতই স্পষ্ট যে, তৃণমূলও তা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলতে পারছে না।