SIR প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও কমিশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর টানা কয়েকদিন ধরনা চলার পর পাঁচদিনের মাথায় সেই ধরনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন মু...
SIR প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও কমিশনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে ৬ মার্চ ধর্মতলায় ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর টানা কয়েকদিন ধরনা চলার পর পাঁচদিনের মাথায় সেই ধরনা প্রত্যাহারের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। মূলত আজ সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে সাময়িক স্বস্তি পেয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী ধরনা মঞ্চ থেকে দাঁড়িয়ে বলেন, 'এবার আমরা বিচারের অপেক্ষায়। মানুষ অধিকার পাবেন। যে দরজাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেটা খুলছে।'
মঙ্গলবার মেনকা গুরুস্বামীর দায়ের করা মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। এদিন আদালতের তরফে কী কী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে তা আরও একবার ধরনা মঞ্চ থেকে আমজনতার সামনে তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, 'নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার পরেও সুপ্রিম কোর্টের হাতে মামলা থাকবে। আমার পিটিশনটি এখনও আছে। নির্বাচন ঘোষণা করে দিলেও ভাববেন না যে আপনার নাম তোলার সুযোগ নেই। ওরা বলেছেন, ভোটের আগের দিন পর্যন্ত যদি কারও নাম বাদ গিয়ে থাকে, আমাদের কাছে আসবেন। আমরা স্পেশাল কেস হিসাবে সেটা দেখব।'
এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, 'অনেকটা বিচার পাওয়া গিয়েছে। যার জন্য আমরা পাঁচ দিন রাস্তায় বসে আছি। অভিষেক সভার সকলের মতামত নিয়েছে। বিচারের দরজা যখন উন্মুক্ত হয়েছে। পাঁচ দিন তো আমরা রাস্তায় আছি। আমি দরকার হলে ৫০ দিনও থাকতে পারি।' এরপরেই স্থানীয় দোকান ও ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আপনাদের আমরা এই ক'দিন ব্যস্ত করেছি। হয়ত কখনও কখনও আপনাদের কান ঝালাপালা হয়েছে। আমারও সারা রাত কান ঝালাপালা হয়েছে। বিভিন্ন শব্দে, বিভিন্ন আওয়াজে। ওটা আমার কাছে ম্যাটার নয়।' এরপরেই সিঙ্গুর আন্দোলনের কথা তুলে মমতা বলেন, 'সিঙ্গুরের ব্যাপারে পণ করে এখানে ২৬ দিন অনশন করেছিলাম। দেখুন কী ভাবে ইতিহাস মিলিয়ে দিয়েছে।'
এরপর ধরনা প্রত্যাহার ঘোষণার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মঞ্চ থেকে জানান, তিনি এখন সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন। সেই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমাদের গভর্নর অনেক দিন এখানে ছিলেন। কাল চলে যাবেন। প্রাক্তন রাজ্যপাল, যাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিচার হয়েছে। আমি এখন তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে যাব।'