স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলেন এক যুবক। এবং কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন।কী ঘটনা?মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঁটাতার পেরিয়ে এবার বাংলায় চলে আসেন মা-বাবা। এমতাবস্থায়, বৈধভাবে বাংলাদেশ...
স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে এলেন এক যুবক। এবং কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন।
কী ঘটনা?
মেয়েকে নিয়ে বাংলাদেশ থেকে কাঁটাতার পেরিয়ে এবার বাংলায় চলে আসেন মা-বাবা। এমতাবস্থায়, বৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে পশ্চিমবঙ্গে আসেন অরিজিৎ সরকার। এখানে এসে খোঁজ পান, তাঁর বিবাহিত স্ত্রীকে বিরাটির একটি বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান অরিজিৎ। অভিযোগ, স্ত্রীর পরিবার তাঁকে বেধড়ক মারধর করে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। নিমতা থানার দারস্থ হলেও সুরাহা পাওয়া যায় না। স্ত্রীকে ফিরে পেতে মরিয়া যুবক শেষ অবধি তাই আদালতের দারস্থ হন। অরিজিতের জানান, বাংলাদেশের নাগরিক মমি সাহাকে বর্তমানে নিমতা থানার বিরাটিতে মন্দিরপাড়ায় পলি সাহা ও উত্তম সাহার বাড়িতে বলপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। তিনি জানুয়ারি মাসে বৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হন। অরিজিৎ তাঁর অভিযোগপত্রে দাবি করেন, এদেশের এসে তাঁর স্ত্রী তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ফোনে যোগাযোগও করেন। তারপরেই তিনি এদেশে আসেন। স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার সময় পলি সাহা, উত্তম সাহা আর স্ত্রীর মা-বাবা মিলে তাঁকে মারধর করে স্ত্রীকে ছিনিয়ে নিয়ে চলে যান।
অরিজিৎ ও মমি-র প্রেম দু-বছরের। পরিবারের অমতে তাঁরা বিয়ে করেন। অভিযোগ, এর পরেই আসতে থাকে ক্রমাগত হুমকি। অরিজিৎ দাবি করছেন, একদিন তাঁর অনুপস্থিতিতে বাড়িতে গিয়ে স্ত্রী মমিকে জোর করে নিয়ে যায় তাঁর মা-বাবা। তারপর, অবৈধভাবে কাঁটাতার পেরিয়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন তাঁরা।
কলকাতায় এসে বিরাটির এক আত্মীয়র বাড়িতে আশ্রয় নেয় তাঁরা। সেখানে মেয়েটিকে আটকে রেখে মারধোর চালায় বাবা-মা এবং সম্পর্কে পিসি ও পিসেমশাই। গোটা বিষয়টা মমি তাঁর স্বামী অরিজিৎ কে ফোন করে জানান। এরপর অরিজিৎ বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে বিরাটিতে সেই আত্মীয়ের বাড়ি গেলে সেখানে তাঁকে স্থানীয় একটি ক্লাবের সামনে দাঁড় করিয়ে মারধর করা হয়।
এরপর নিমতা থানা থেকে শুরু করে ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেট এবং সিআইডিতে অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা পাননি অরিজিৎ। এবং অবশেষে কলকাতা হাইকোর্টে দ্বারস্থ হয়েছেন।
এদিন মামলা ফাইল হয়। আগামী মঙ্গলবার শুনানির সম্ভাবনা। অরিজিৎ ও তাঁর আইনজীবী প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে এসে আশ্রয় নেওয়ার পরেও কেন পুলিশ কোনোরকম পদক্ষেপ করল না মমি-র মা-বাবার বিরুদ্ধে? দাবি, বিরাটির পিসি ও পিসেমশাই দীর্ঘ দিন ধরে অবৈধ ভাবে কাগজপত্র বানিয়ে ভারতে বসবাস করছেন।