বৃহস্পতিবার রাতে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রং রুমে আচমকা হানা দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যেোপাধ্যায়। EVM বদলের আশঙ্কা প্রকাশ করে ৪ ঘন্টা স্ট্রং রুমে চেয়ার পেতে বসে পড়েন তিনি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প...
বৃহস্পতিবার রাতে শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রং রুমে আচমকা হানা দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যেোপাধ্যায়। EVM বদলের আশঙ্কা প্রকাশ করে ৪ ঘন্টা স্ট্রং রুমে চেয়ার পেতে বসে পড়েন তিনি। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রবল উত্তেজনা ছড়ায় স্ট্রং রুম চত্বরে। সেই ঘটনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নিরাপত্তা জোরদার করল কমিশন। সূত্রের খবর অনুযায়ী, বিশাল সংখ্যাক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ঘটনাস্থলে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে বিশেষ নজরদারি দেওয়া হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গতরাত্রে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হঠাৎ করে স্ট্রংরুমের সামনে চলে আসা এবং যে যে অভিযোগ করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতেই এই করা নিরাপত্তা ব্যবস্থা। নতুন করে আবারও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে স্ট্রং রুমের সামনে। কলকাতা পুলিসের তরফেও আরও গার্ড রেল আনা হয়েছে। স্ট্রং রুমে অনিয়মের অভিযোগ তুলে গতকাল রাতেই সরব হয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী। অভিযোগ তুলে বলেছিলেন, 'এখানে আমার কেন্দের EVM রয়েছে। নেতাজি ইন্ডোর-সহ অনেক জায়গায় EVM কারচুপি ফুটেজ প্রকাশ্যে এসেছে। বাইরের লোক এসে পোস্টাল ব্যালট এদিক-ওদিক করছে। তাই এখানে এসেছি।' এরপরই তিনি নির্দেশিকার সুরে বলেন, 'স্ট্রং রুম পাহারা দিন, রাত জাগুন'। তাঁর সংযোজন, 'গণনায় কারচুপির পরিকল্পনা করলে বরদাস্ত করব না'।
এরপরেই আজ শাখাওয়াত এর বাইরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে মুড়ে ফেলা হয়েছে স্ট্রংরুম। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে কারা করা ঢুকছেন তার উপর কড়া নজরদারিও রাখা হয়েছে। সেখানে মূল গেটেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, শুধু শাখাওয়াত নয়, কলকাতা পুলিসের অধীনে যেসব স্ট্রং রুমগুলো রয়েছে, সেগুলোর প্রত্যেরটিতেই ১৬৩ ধারা জারি করেছে কমিশন। নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্ট্রং রুম চত্বরের ২০০ মিটারের মধ্যে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি মিছিল, সভা, বিক্ষোভ, শোভাযাত্রা বা কোনও ধরনের জনসমাবেশও করা যাবে না ওই চত্বরে। আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি, বিস্ফোরক, পাথর, ইট বা ক্ষতিকর বস্তু বহনেও কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের অনুমোদনহীন কোনও সামগ্রীও ওই এলাকায় নিয়ে যাওয়া যাবে না।