শুধু তাঁর নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বালিগঞ্জেই নয়, দার্জিলিং থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি মানুষ তাঁর দল তৃণমূল ও নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দু-হাত উপুর করে ভোট দিয়েছেন। ভোট দিয়েছেন বিশেষ করে সমাজের তিনটি ক্যাটেগরির মানুষ: 'গরিব, মহিলা ও মুসলিম'।
বাংলায় কংগ্রেস রাজনীতির বর্ষীয়ান নেতা ও এবারের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় সিএন-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করলেন।
জয়-পরাজয়
রাত পোহালেই গণনা। দু-দফায় ৯০ শতাংশের বেশি ভোট দিয়ে নজির গড়েছে বাংলা। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সকাল-সকাল বেশি ভোট পড়লে তা শাসক-দলের কাছে অশনিসঙ্কেত ঠিকই। তবে, এসআইআর-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সেই প্রবণতা এবার দেখা যাবে কি না, তা বুক ঠুকে কেউ বলতে পারছেন না। বুথ-ফেরত সমীক্ষায় কোথাও এগিয়ে বিজেপি, কোথাও-বা তৃণমূল। তাছাড়া, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ বুঝেছে, এগজিট-পোলে ক্ষণিকের জন্য মৌতাত চড়ে ঠিকই, তবে গণনার দিন ঝাঁকুনি দিয়ে নেশা ছুটে যায়।
এই পরিস্থিতিতে, কোন দল কত আসন পাবে, তৃণমূল এবারও ২০০ ছাড়িয়ে যাবে নাকি বিজেপি কেল্লা ফতে করবে, এমনকি, দুই প্রধানের মধ্যে আদৌ কেউ ম্যাজিক ফিগার ছুঁতে পারবে কি না, তা নিয়ে জল্পনা জমজমাট। বুদ্ধিমান সাংবাদিকরা এবার অবশ্য সচেতনভাবেই কোনও পূর্বাভাসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন না সেভাবে।
তাহলে?
এমতাবস্থায়, যাঁরা প্রার্থী হয়েছেন এবার, তাঁদের শরীরী ভাষায় কতটা আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে, তার উপরেই নির্ভর করতে হচ্ছে সংবাদমাধ্যমকে। এবং, সেই কারণেই, বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় যখন নিজের জয় নিয়ে একশো শতাংশ নিশ্চিত বলে দাবি করেন, তখন মেনে নিতে হয়, তিনিই জিতছেন।
বাংলায় কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতিতে বর্ষীয়ান নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। নব্বইয়ের দশকে মমতার উত্থানের সময়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে তিনি মমতাপন্থী ছিলেন। তারপর তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম ও বাকিটা ইতিহাস।
কী বলছেন শোভনদেব?
" এর আগে ন-বার নির্বাচনে লড়েছি, কখনও এমন অসুবিধার সম্মুখীন হতে হইনি। নির্বাচন কমিশন যে-খামখেয়ালি আচরণ করেছে, তা তুঘলক জমানাকেও হার মানায়। এবেলা এক নির্দেশ তো ওবেলা অন্য এক নির্দেশ। খাপ খাইয়ে চলা খুব মুশকিলের ব্যাপার। বাংলার ভোট এবার চ্যালেঞ্জিং। এসআইআর-পরবর্তী নির্বাচন। বিপুল মানুষ ভোট দিয়েছেন। মহিলা, গরিব ও মুসলিমরা ভোট দিয়েছেন তৃণমূলকে। বিজেপি ঘাঁটি গেড়ে বসে আছে বাংলায়। কোটি-কোটি টাকা ছড়াচ্ছে। ভোটারদের দিচ্ছে। অন্যরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী থেকে শুরু করে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতামন্ত্রীরা পাঁচতারা হোটেল বুক করে রয়েছেন কলকাতায়। খবর পেলাম, এতজন এতদিন ধরে সেই হোটেলে থেকেছেন যে, বিজেপির বিল হয়েছে ২০০ কোটি টাকা। আজকেই সেই খবর পেলাম। কোথা থেকে পেলাম বলব না এখন। শুধু এটুকু বলতে পারি, দীর্ঘদিন ধরে ট্রেড ইউনিয়ন করেছি। সেই সূত্রেই আমার অনেক যোগাযোগ। তবে বালিগঞ্জে আমার জয় নিয়ে আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত। তৃণমূলের জয় নিয়েও নিশ্চিত। দার্জিলিং থেকে বঙ্গোপসাগর অবধি মানুষ তৃণমূলকে ভোট দিয়েছে। আর লক্ষ্মীর ভান্ডারে ১৫০০ টাকার বদলে বিজেপি মহিলাদের জন্য ৩ হাজার টাকা দেবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বটে, কিন্তু আমরা মহিলাদের বুঝিয়েছি, মহারাষ্ট্রে ওরা এই প্রকল্প আর চালাতে পারছে না, বিহারে টাকা ফেরত নিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাছাড়া, বিজেপি ভোটের সময় আসবে ভোট ফুরোলে চলে যাবে। সারাবছর কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রকল্পই থেকে যাবে।"