রাজ্যে মধ্যগগনে SIR প্রক্রিয়া। আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইন মাধ্যমে সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম কমিশনের পোর্টালে জমা করতে হবে। তারপরেই ধাপে ধাপে শুরু হবে খসড়া তালিকা প্রকাশের কাজ। কিন্তু ১১ ডিসেম্বরের পর...
রাজ্যে মধ্যগগনে SIR প্রক্রিয়া। আগামী ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে অনলাইন মাধ্যমে সমস্ত এনুমারেশন ফর্ম কমিশনের পোর্টালে জমা করতে হবে। তারপরেই ধাপে ধাপে শুরু হবে খসড়া তালিকা প্রকাশের কাজ। কিন্তু ১১ ডিসেম্বরের পরে যদি তালিকায় কোন গরমিল ধরা পড়ে, তাহলে তার দায় নিতে হবে BLO আধিকারিকদের। গতকাল বৃহস্পতিবার, কমিশনের তরফে বিশেষ বিজ্ঞপ্তি পেশ করে রাজ্যের সমস্ত BLO-কর্মীকে আগাম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে কমিশন তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে বলেও সতর্ক করেছে।
ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধনী প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্য জুড়ে একের পর এক অশান্তি তৈরি হয়েছে। দেশত্যাগী হওয়ার 'আতঙ্কে' মৃত্যু হয়েছে বহু সাধারণ মানুষের। আত্মহত্যার পথও বেছে নিয়েছিলেন অনেকে। অন্যদিকে কম সময়ের মধ্য়ে বিরাট কর্মযজ্ঞ শেষ করতে না পারার আতঙ্কেও অসুস্থ হয়ে পড়েন বহু BLO কর্মী। হাত-পা ছড়িয়ে কাঁদতেও দেখা যায় অনেক সরকারি আধিকারিককে।
এই অবস্থায় কমিশন BLO-দের উপর মাত্রাতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে বলে অভিযোগ তুলেছে রাজ্যের শাসক দল। একই অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন BLO আধিকারিকদের একাংশ। এই আবহে পূর্বনির্ধারিত ডেডলাইনে লাগাম দিয়েছে কমিশন। সাতদিন করে সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে SIR সংক্রান্ত সমস্ত প্রক্রিয়ার। কমিশনের আগের ঘোষণা অনুযায়ী, ৪ ডিসেম্বর অনলাইন মাধ্যমে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল। ৯ ডিসেম্বর খসড়া তালিকা প্রকাশ করে পরবর্তী ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত তালিকায় আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা জানানোর সময় দেওয়া হয়েছিল। ৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছিল অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা। এবং ৭ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছিল কমিশন।
নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার তারিখ। ১৬ ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া তালিকা। ১৬ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অভিযোগ জমা নেওয়ার কাজ। এরপর ১৬ ডিসেম্বর থেকে ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা বর্ধিত করা হয়েছে হয়েছে। সবশেষে ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত নির্বাচনী তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। আর এই অবস্থায় ১১ তারিখের পর আর কোন ভুল মাফ হবে না জানিয়ে স্পষ্ট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন।