রামায়নে ঘটা প্রতিটি ঘটনার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। একটি কাহিনি আছে। যার কিছুটা আমরা জানি, কিছুটা আমাদের অজানা। 'অঙ্গদ রায়বার' রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডের একটি কাহিনী, যেখানে বালীপুত্র অঙ্গদ শ্রীরামচন্...
রামায়নে ঘটা প্রতিটি ঘটনার পিছনে একটি কারণ রয়েছে। একটি কাহিনি আছে। যার কিছুটা আমরা জানি, কিছুটা আমাদের অজানা। 'অঙ্গদ রায়বার' রামায়ণের লঙ্কাকাণ্ডের একটি কাহিনী, যেখানে বালীপুত্র অঙ্গদ শ্রীরামচন্দ্রের দূত হিসেবে রাবণের সভায় শান্তি প্রস্তাব নিয়ে যান। রাবণকে পরামর্শ দেন শ্রীরামের শরণাপন্ন হবার। শেষ পর্যন্ত তিনি বানর বাহিনীর শক্তি বোঝানোর জন্য নিজের পা লঙ্কার রাজসভায় গেঁথে দেন। ইন্দ্রজিৎ সহ কোনও রাক্ষস বীরই সেই পা তুলতে সক্ষম হন না। শক্তির দিক থেকে অঙ্গদের স্থান শ্রী রামের বানর বাহিনিতে হনুমানের পরেই। এ হেন বীর থাকা সত্ত্বেও কেন হনুমানকে সাগর পার করে লঙ্কায় যেতে হয়েছিল? কেন অঙ্গদকে সাগর পার করার কথা বলাতে তিনি বলেছিলেন যে তিনি লঙ্কায় যেতে পারেন, কিন্তু ফিরতে পারবেন কিনা তাতে সন্দেহ আছে। যেখানে বালি পুত্রের কাছে শত যোজন সমুদ্র পার করা খেলার সমান!
এর পিছনে একটি গল্প আছে। বালি এবং রাবণ দুজনেই বন্ধু ছিলেন। উভয়ের পুত্র অঙ্গদ আর অক্ষয়কুমার বাল্যকালে বন্ধু ছিলেন। উভয়েই গুরু শুক্রাচার্যের কাছে শিক্ষা নিয়েছিলেন। চপল অঙ্গদ সে সময় প্রায়সই খেলার ছলে অক্ষয়কুমারকে আঘাত করতেন। একদিন গুরু শুক্রাচার্য অঙ্গদকে অভিশাপ দেন যে যদি তিনি আর কোনওদিন অক্ষয়কুমারকে আঘাত করেন তাহলে তৎক্ষণাৎ তাঁর মৃত্যু হবে। তারপর থেকে অঙ্গদ অক্ষয়কুমার কে এড়িয়ে চলতেন। এই কারণেই অঙ্গদের মনে সংশয় ছিল, যদি লঙ্কায় অক্ষয় কুমারের সঙ্গে তাঁকে মুখোমুখি হতে হয়, তাহলে গুরুর অভিশাপ অনর্থ ডেকে আনতে পারেন।
রাবণও এই রহস্য জানতেন, তাই যখন তিনি শুনলেন রামের বাহিনির এক বীর বানর, লঙ্কার অশোক বাটিকা তছনছ করছেন, তিনি ভেবেছিলেন অঙ্গদ এসেছেন। তাই তিনি অক্ষয় কুমারকে পাঠিয়েছিলেন। কারণ অক্ষয়কুমারকে আঘাত করা মাত্র গুরুর অভিশাপে অঙ্গদের মৃত্যু হবে। হনুমানও জানতেন এই অভিশাপের কথা। তাই লঙ্কায় গিয়ে তিনি প্রথমে অক্ষয়কুমারকে বধ করেন এবং পরবর্তীকালে অঙ্গদের লঙ্কায় আসার পথ সুগম করেন। হনুমানজির লঙ্কায় যাওয়া কেবল পরাক্রম নয়,বরং দূরদর্শিতা ও লীলা-রহস্যের এক ঐশ্বরিক সিদ্ধান্ত ছিল।