অসীম সেন: চৌঠা ফাল্গুন নির্মল আকাশ, মৃদুমন্দ বহিতেছে হিমেল বাতাস। লক্ষ্মী দেবী পাশে করি, বসি নারায়ণ কহিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন। এমন সময় তারকাটল তারকাটা নারদ মুণি। হাতের যন্তরটা পিড়িং পিড়িং করে বাজা...
অসীম সেন: চৌঠা ফাল্গুন নির্মল আকাশ, মৃদুমন্দ বহিতেছে হিমেল বাতাস। লক্ষ্মী দেবী পাশে করি, বসি নারায়ণ কহিতেছে নানা কথা সুখে আলাপন। এমন সময় তারকাটল তারকাটা নারদ মুণি। হাতের যন্তরটা পিড়িং পিড়িং করে বাজাতে বাজাতে এসে বললে, " প্রভু তরলমতি চঞ্চল মন, কখনও হর্ষ কখনও রোদন" লক্ষ্মী দেবী ভুরু কুঁচকে বললেন 'মরণ', কুটকচাল বুড়ো আর আসার সময় পেল না। নারায়ণ জগতের নাথ। স্মিত হাস্য হেসে বললেন 'কী হয়েছে মুণিশ্রেষ্ঠ? এত চিত্ত চঞ্চল কেন'? নারদ উত্তেজিত হয়ে বললেন আর বলবেন না প্রভু এই কিছুদিন আগেও বিএনপি কর্তা হুমায়ূন কবির বললে, 'যে দেশ একজন সন্ত্রাসীকে আশ্রয় দেয় এবং তাঁকে আমাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ করে দেয়, সেই দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়া জনগন মেনে নেবে না'।
ব্যাস গোটা দেশ লেগে গেল ভারত বিরোধিতায়। থান ইট, গুলতি, খেঁটো বাঁশ নিয়ে হুমকি দিল সেভেন সিস্টার দখলের। ক্রিকেটের ময়দানেও ভারত বিরোধিতা। আশে পাশে যত খালা, চাচা, আব্বা রয়েছে তারাও এ সুযোগে কলকেতে ফুঁ দিতে লাগল। কিন্তু ফলটা কী হল? সাতমণ তেলও পুড়ল, আর রাধাও নাচলো না। নারায়ণ তখন নিজের ইমেজ ধরে রেখে বললেন, ,সংসার অসার।
বাংলাদেশ যা পেয়েছে ভারতের থেকে পেয়েছে, যা পাবে ভারতের থেকেই পাবে। সমস্যা হল এই সারসত্যটি বুঝতে ক্ষুদ্র মানব বুদ্ধিতে কিছুটা সময় লাগে'। ১৯৭১ সালে যদি ভারত, মুক্তি যোদ্ধাদের পাশে না দাঁড়াত তাহলে পাকিস্তানি সেনা পিটিয়ে পরোটা বানিয়ে দিত, যদি ভারত গঙ্গা চুক্তি রিনিউ না করে, তাহলে পদ্মার চর সাহারা মরুভূমি হয়ে যাবে। ভারতের প্রতি যতই অবজ্ঞা থাকুক না কেন, চাল, গম, খনিজ জ্বালানি, সুতো, যন্ত্রপাতি, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেল, বিদ্যুৎ, ডাল, চিনি, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, মশলা এবং বিভিন্ন ওষুধ তৈরির কাচা মালের জন্য ইন্ডিয়াই মাই বাপ। নারদ তখন দুখী চিত্তে বললেন, 'প্রভু নির্বোধের দল যতই আড়বোঝা হোক না কেন? ওরাও তো এই জগতের বাসিন্দা। ওদের সদবুদ্ধি দেওয়াও তো আপনার ধর্ম'। নারায়ণ স্মিত হাস্যে বললেন'তথাস্তু'।
এরপরই বিএনপির তরফে ঘোষণা কেবল মাত্র শেখ হাসিনা ইস্যুতে আটকে থাকবে না ভারত আর বাংলাদেশের সম্পর্ক। ভারতের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলা লোকেরা আসলে পাগলের প্রলাপ বকছেন। ভারতের সঙ্গে যাবতীয় সমস্যার সমাধান আলোচনা করে মেটাতে চাইছেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি আরও বলেন ভারতের সঙ্গে আমরা লড়াই করতে পারব না গঙ্গা জলবন্টন চুক্তি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার সমস্যা নিয়ে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসতে হবে। বাংলাদেশের এই পরিবর্তন লক্ষ করে বৈকুণ্ঠে কমলা বললেন 'প্রভু আপনার লীলা বোঝে কার সাধ্যি'? লক্ষীপতি তখন সেই অমোঘ জ্ঞান দিলেন জগতবাসীর উদ্দেশে। নিজেকে সবল প্রমাণ করতে হলে তা কার্যক্ষেত্রে করতে হবে।অকারণ প্রগলভতা একটি জাতিকে জোকারে পরিণত করে। তোমার হাতে যদি ভিক্ষার পাত্র থাকে তাহলে দাতার বিরুদ্ধে অকারণ উচ্চস্বর, চরম পাপ। এ নেহাতই বায়ুগ্রস্থদের মানায়। নারায়ণের এই দেববাণী প্রচার হবার পর পুষ্পবৃষ্টি হল, আকাশে জ্যোতি ছড়াল। তারেক রহমান বাংলাদেশের সিংহাশনে বসলেন। এবং কথা দিলেন ভবিষ্যতে তিনি সুশাসনের রত থাকবেন।