অসীম সেনঃ কলকাতার একটি অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটা। পরেশপাল এখানকার তিন তিন বারের বিধায়ক। এবার তাঁর জায়গায় তৃণমূল প্রার্থী সাংবাদিক, অভিনেতা, লেখক কুণাল ঘোষ। পরিবর্তনের পর থেকে এই এলাকার মানুষ দে...
অসীম সেনঃ কলকাতার একটি অন্যতম বিধানসভা কেন্দ্র বেলেঘাটা। পরেশপাল এখানকার তিন তিন বারের বিধায়ক। এবার তাঁর জায়গায় তৃণমূল প্রার্থী সাংবাদিক, অভিনেতা, লেখক কুণাল ঘোষ। পরিবর্তনের পর থেকে এই এলাকার মানুষ দেখেছে শাসক দলের বিনা আয়াসে জয়। এই বিধানসভা কেন্দ্রের উত্তরে মানিকতলা এবং উল্টোডাঙা, দক্ষিণে এন্টালি এবং কসবা, পূর্বে সল্টলেক এবং চিংড়িহাটা এবং পশ্চিমে শিয়ালদহ স্টেশন। এবার প্রশ্ন হল বেলেঘাটা নামটি এলো কোথা থেকে?
একটা জনপ্রিয় মত হল এই অঞ্চলে একটা সময় প্রচুর পরিমাণে বেলে মাছ পাওয়া যেত। এই মাছের থেকে এলাকার নাম হয়েছে বেলেঘাটা। এবার প্রশ্ন হল এই অঞ্চলে এত বেলে মাছের প্রাবল্য হল কীভাবে। উত্তর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বেলেঘাটা খাল এটি হুগলি নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে বাগমারি, নারকেলডাঙা হয়ে বিদ্যাধরী নদীতে মিশেছে। একটা সময়ে এই খাল ব্যবসার প্রধান মাধ্যম ছিল। এই খালের পার ছিল বেলে মাটির সেই ঘাটের নাম থেকে বেলেঘাটা হতে পারে। আর একটি মত প্রচলন আছে এই অঞ্চলে বুলি বা বুলিআ নামে বড় মালবাহী নৌকা র ঘাট ছিল। এই ঘাটকে বলা হত বুলি ঘাট বা বুলিআঘাট । এই বুলিয়াঘাট অপভ্রংশ হয়ে বেলেঘাটায় পরিণত হলেও হতে পারে।
১৮ শতকে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধিগ্রহণ করা ডিহি পঞ্চান্নগ্রামের অন্তর্ভূক্ত ছিল বেলেঘাটা। এটি ছিল মারাঠা ডিচের বাইরের অংশ। তখনকার দিনে এটি একটি খাল কেন্দ্রিক বাণিজ্যিক এলাকা হিসেবে গড়ে ওঠে। ১৮২৮ সালের ২৮ জানুয়ারি, পূর্ব এশিয়ার প্রথম টাওয়ার অফ সাইলেন্স বা পার্সিদের শেষকৃত্যভূমি বেলেঘাটায় প্রতিষ্ঠিত হয় । ১৮৯২ সালে শ্রী গগনচন্দ্র সরকার তার মাছের ব্যবসা থেকে বিপুল সম্পদ অর্জন করেন এবং পূর্ব কলকাতার জলাভূমির একটি বিরাট অংশ অধিগ্রহণ করার পর বেলিয়াঘাটার জমিদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন । তাঁর প্রাসাদোপম অট্টালিকা বেলেঘাটা সরকার বাড়ি নামে পরিচিত। ১৯৪৭ সালে মহাত্মা গান্ধী সাম্প্রদায়িক হানাহানির সময় এই এলাকার হায়দারি মঞ্জিল , বর্তমানে গান্ধী ভবনে ২৬ দিন অবস্থান করেছিলেন।