আজ থেকে প্রায় একশো বাইশ বছর আগের এক হিমেল মধুর সন্ধ্যায় শিলাইদহে স্রোতস্বিনী পদ্মায় এক বোটে তিনজন নক্ষত্র খচিত মানুষ। একজন বিদেশিনী নারী ও দুজন পুরুষ। দুজন পুরুষ হলেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ও কবি ...
আজ থেকে প্রায় একশো বাইশ বছর আগের এক হিমেল মধুর সন্ধ্যায় শিলাইদহে স্রোতস্বিনী পদ্মায় এক বোটে তিনজন নক্ষত্র খচিত মানুষ। একজন বিদেশিনী নারী ও দুজন পুরুষ। দুজন পুরুষ হলেন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু ও কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। নারী হলেন মার্গারেট নোবেল ওরফে নিবেদিতা। সালটা ১৯০৪ সালের শেষের দিক। তাদের মধ্যে সেই জলযানে কি কথোপকথন হয়েছিল আমরা তা জানি না। এরপরই তখন 'রবীন্দ্রনাথ একটি উপন্যাস রচনা করেন। শোনা যায়, এই উপন্যাসের নায়ক চরিত্রটি রবীন্দ্রনাথ নিবেদিতাকে মনে রেখে সৃষ্টি করেছিলেন। উপন্যাসটির নাম 'গোরা'। নিবেদিতা চরিত্রের অনেক বৈশিষ্ট্য 'গোরা' উপন্যাসে প্রতিবিম্বিত ইয়েছে।
নিবেদিতা ভারতে আসার কয়েকদিনের মধ্যে একদিন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর বাড়িগিয়েছিলেন- তার ছোট্ট আগোছালো ল্যাবরেটারিটি দেখতে। সেইদিনই দুজনের সম্পর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠতর হয়। বিজ্ঞানী ও সন্ন্যাসিনী দুই বিপরীত মেরুর মানব মানবী। তাদের অসম সম্পর্কের অভিমুখ কি শুধুই ভাললাগা ! রবীন্দ্রনাথ নিবেদিতাকে 'লোকমাতা'-বলে সম্বোধন করেছিলেন। তিনি লিখেছিলেন, "নিজেকে এমন করিয়া সম্পূর্ণ নিবেদন করিয়া দিবার আশ্বর্য শক্তি আর কোনো মানুষে প্রত্যক্ষ করি নাই।"
নিবেদিতা যেদিন প্রথম বিজ্ঞানী- জগদীশ চন্দ্র বসুর পরীক্ষাগার দর্শনে যান, জগদীশ চন্দ্র তাঁকে দেখান জড়দ্রব্য প্রানের অনিবার্য লক্ষণ। জড়দ্রব্যও যে উত্তেজনায় সাড়া দেয়, 'ক্লান্তি বোধ করে- তা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন নিবেদিতা। অদ্বৈত দর্শন অর্থ্যাৎ সর্বভূতে একই চৈতন্যর প্রকাশ বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় প্রমাণিত হতে চলেছে দেখে অভিভূত হয়ে যান। যাই হোক পরিচয়ের প্রথম দিন থেকে জগদীশ চন্দ্রের সঙ্গ ভাল লাগে নিবেদিতার। বিজ্ঞান গবেষনায় জগদীশ চন্দ্রকে সাহায্য করার জন্য তিনি অধীর হয়ে ওঠেন। তবে সত্যসন্ধানী জগদীশ চন্দ্রের লড়াকু মনোভাবটিই বোধহয় নিবেদিতাকে আর্কষন করতো। নিবেদিতা মিস ল্যাকউডকে জানিয়ে ছিলেন, এতকিছু সত্ত্বেও I love that man. ( সমাপ্ত)