দুধ বিক্রয় করিয়া কেহ বা মদ্যপান করে, কেহ আবার মদ্য বেঁচিয়া দুধ ক্রয় করে। কিন্তু এ দেশে তাহাও করিবার জো রহিল না। নতুন বছর নতুন দিন নতুন ভাবে বর্ষবরণ। সেখানেও কিনা রঙের অভাব। রাত রঙীন আর হইব হইব করিয়াও ...
দুধ বিক্রয় করিয়া কেহ বা মদ্যপান করে, কেহ আবার মদ্য বেঁচিয়া দুধ ক্রয় করে। কিন্তু এ দেশে তাহাও করিবার জো রহিল না। নতুন বছর নতুন দিন নতুন ভাবে বর্ষবরণ। সেখানেও কিনা রঙের অভাব। রাত রঙীন আর হইব হইব করিয়াও হইবে না। রামভক্তদের মাথায় হাত। হুইস্কির চুস্কি এখন আর অতটা সহজলভ্য হইবে না। স্কচ, শ্যাম্পেন, জিন, সকলই সীমাহীন আবেগে পোড়া মাংসের সহিত আপনাকে আনন্দিত করিতে পারিবে না।

শুধুমাত্র ঘোড়ার মুত্র বলিয়া যাহাকে এতদিন নীচু চোখে দেখিয়া আসিয়াছেন সেই পানীয় বিকোবে পুরাতন এমআরপিতে। যাহাদের কাছে পুরাতন স্টক রহিয়াছে, তাহারাও আর পুরাতন এমআরপিতে সুরা বিক্রয় করিতে পারিবেন না। দরিদ্রের দুঃখ কেহ বোঝে না। আমি বাংলার গান গাই. আমি বাংলায় গান গাই। তা বলিয়া বাংলা খাইয়া ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন করিতে হইবে! দুগ্গাপুজোর সময়ে সুরাশক্তরাই বাংলায় মদ শিল্পে বিপ্লব আনিয়াছে। কোটি কোটি টাকা নগদ রাশি জমা পড়িয়াছে রাজকোষে। তাহারই পুরস্কার জুটিল?

আদর করিয়া যাহাকে খাম্বা বলা হয়ে থাকে সেই ৭৫০ মিলিলিটারের দাম বাড়িল প্রায় চল্লিশ টাকা। পূর্বে অফিস ফেরতা অনেকেই নরম পানীয়ের অর্ধেক খাইয়া ছোট্ট অর্থাৎ ১৮০ মিলিলিটার মিশাইয়া মাইলের পর মাইল ট্রেন অথবা বাস সফর করিতেন মহানন্দে। সে আনন্দ আর রহিল কোথায়? এখন ভালোবাসার নিপ বিকোচ্ছে দশটাকা অধিক মূল্যে। যাহাদের উদার হস্ত রাজকোষ উপছাইয়া দিত, তাহাদের ওপর এই অনাচার কী ধর্মে সইবে?

চৈনিকরা অনেক ক্ষেত্রে সদ্য মাতাদের দিনে এক কাপ করিয়া দুগ্ধ বিনামূল্যে বিতরণ করিতেছেন। আমাদের বঙ্গে বিপরীত আচরি। সরকারি ''আর'' চিহ্ন প্রাপ্ত দুগ্ধের প্যাকেটের মূল্য চার টাকা বাড়িয়াছে। এমনতর মূল্যবৃদ্ধি নিম্নবিত্ত পরিবারে প্রভাব ফেলিবে অবশ্যই।

যে সংসারে শিশু রহিয়াছে, সে সংসারে দুগ্ধ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য। প্রতিদিন চার টাকা অধিক খরচ হইলে মাসের শেষে টান একটা পড়িবে তাহাতে আর সংশয় কোথায়? এ সংসার প্রপঞ্চময়, এ তো কবি আগেই বলিয়া গিয়াছেন। জিডিপির ডিগবাজি রুখতে এমন কিছু সিদ্ধান্ত আবশ্যিক হইয়া দাঁড়ায়। তাহার থেকে বড় বিষয়, সম্মুখে ভোট পূজা। এ সময় কা তব কান্তা কস্তে পুত্রঃ