অসীম সেন: বাইশ গজে তখন কেউ ছিল না। একের পর এক বল করে যাচ্ছিলেন নেটে। একটা উইকেট লক্ষ করে বিষাক্ত ইনস্যুইং। দশটার মধ্যে সাতবার উইকেট উড়িয়ে দিচ্ছিলেন ইমরান। ইতিমধ্যে একের পর এক ম্যাচ হেরে দলের মনোবল ...
অসীম সেন: বাইশ গজে তখন কেউ ছিল না। একের পর এক বল করে যাচ্ছিলেন নেটে। একটা উইকেট লক্ষ করে বিষাক্ত ইনস্যুইং। দশটার মধ্যে সাতবার উইকেট উড়িয়ে দিচ্ছিলেন ইমরান। ইতিমধ্যে একের পর এক ম্যাচ হেরে দলের মনোবল ভেঙে গেছে পাকিস্তানের। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে গো হারান হেরে ড্রেসিং রুমে তখন পিন পড়লে শব্দ শোনা যাবে। কোনওদিন সুবক্তা হিসেবে পরিচিতি ছিল না। তা সত্ত্বেও ব্যারিটোন ভয়েসে ইমরান একটি সংক্ষিপ্ত স্পিচ রাখলেন। ঘাম দেহ তোয়ালে মুছে ক্যাপটেনের টি শার্টে তখন একটা বাঘের ছবি। যেটা শিকার ধরার জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
ইমরান খান তার দলকে বোঝালেন যে পাকিস্তান ক্রিকেট দল এখন একটা কোনঠাশা বাঘ, যাকে জিততেই হবে। ওয়াসিম আক্রমকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন তোমার থেকে ভালো বোলার আছে নাকি পৃথিবীতে? ইনজামাম উল হককে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, নিজের ভিতরে উঁকি দাও, তোমার থেকে ভালো ব্যাটসম্যান আর কে আছে? সেই কর্নারড টাইগার্স তত্ত্ব ইতিহাস তৈরি করল। ২৫ মার্চ মেলবোর্নের স্যাৎস্যাতে উইকেটে ইংল্যান্ডের বিষাক্ত স্যুইং পাকিস্তানকে বিভ্রান্ত করে তুলেছিল। হাল সামলালেন ক্যাপটেন। ইমরানের ৭২ রানে ভর করে পাকিস্তান ইংল্যান্ডকে ২৫০ রানের টার্গেট দেয়। জবাবে ২২৭ রানে অলউইকেট ডাউন হয়ে যায় ইংল্যান্ড। ইতিহাস তৈরি করে পাকিস্তান। ম্যাচের সেরা আক্রম বলেছিলেন এ সবই হয়েছে ইমরান ভাইয়ের জন্য।
ইমরান খানের দুরদৃষ্টি ছিল, ইমরান খানের প্রখর দৃষ্টি ছিল। উইকেটে একটি কয়েন রেখে নাকি বল দিয়ে উড়িয়ে দিতে পারতেন। ক্যাপ্টেন আজ চোখে ঠিক করে দেখতে পান না। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে ইমরান খানের গুণগান গাওয়ার কোনও জায়গা নেই। যখনই সুযোগ পেয়েছেন ভারতকে দোষারোপ করেছেন। বেকায়দায় পড়ে ভারতকে তোষামোদও তার ব্যাক্তিত্ব বিরোধী। তেহরিক ই ইনসাফ কে দরাজ হস্তে গ্রিনকার্ডও দেওয়ার যায় না। কিন্তু ইমরান খান কে রাজনীতিবিদ হিসেবে দেখতে মন চায় না গোটা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমী। ইমরানের ডান চোখে আর মাত্র ১৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি অবশিষ্ট রয়েছে।
২০২৩ সালের অগস্ট মাস থেকে আদিয়ালা জেলে বন্দি ইমরান। ইমরান খানকে আন্তর্জাতিক চিকিৎসা দেওয়ার জন্য পাকিস্তান সরকারকে চিঠি লিখেছেন বিশ্বের তাবড় তাবড় ক্রিকেটাররা। চিঠি দিয়েছেন গাভাস্কার, কপিলের মত কিংবদন্তীরাও। ইমরান খান এক আবেগের নাম। আজকে পাকিস্তান, ক্রিকেটের তলানিতে অবস্থান করলেও, যেটুকু সমীহ পায় তার কারিগর ওই লোকটা। ইমরান খান ফিরে আসুন ক্রিকেটের ময়দানে। রাজনীতি আপনার জন্য নয়। যদি কখনও স্বাধীন ভাবে খোলা আকাশের নীচে দাঁড়াতে পারেন, তাহলে একবার অন্তত বলের সিমে হাত বোলান। একবার অন্তত বলটা ছুড়ে দিন উইকেট লক্ষ করে। আপনাকে নিয়ে লেখা হবে রূপকথা। বিরানব্বইয়ের বিশ্বকাপ যে শুধু পাকিস্তানের নয়, সেই সব কোনঠাশা মানুষদের জন্য, যারা একবার অন্তত টাইগার হতে চায়।