অসীম সেন: সে প্রায় আড়াইশো বছর আগের কথা। মেছুয়া বাজারের নাম বদলে হল জোড়াসাঁকো। এই চত্ত্বর হয়ে উঠল বাংলা নবজাগরণের ধাতৃভূমি। জোড়াসাঁকো নামটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এলাকায় তেমন ভাবে খাল, নালা ছিল না, সেখা...
অসীম সেন: সে প্রায় আড়াইশো বছর আগের কথা। মেছুয়া বাজারের নাম বদলে হল জোড়াসাঁকো। এই চত্ত্বর হয়ে উঠল বাংলা নবজাগরণের ধাতৃভূমি। জোড়াসাঁকো নামটি নিয়েও রহস্য রয়েছে। এলাকায় তেমন ভাবে খাল, নালা ছিল না, সেখানে এক জোড়া সাঁকো এলো কোথা থেকে? নামের মানে খোঁজা বজায় রইল ঠাকুর বাড়িকে কেন্দ্র করে। বলা হতে থাকল ঠাকুর দের ৫ এবং ৬ নম্বর বাড়ির মাঝেই নাকি ছিল জোড়া সাঁকো। কেউ কেউ মনে করেন জোড়া শঙ্করের মন্দির থেকে জোড়া সাঁকো নামটি এসেছে। একটি মত আরও ছিল। কাছেই বেনিয়াটোলার শাখারিপাড়া। দক্ষিণে বউবাজারের শাঁখারিটোলা। একসময় জাহাজ বোঝাই শঙ্খ আসত উত্তর কলকাতার ঘাটগুলিতে। শাঁখগুলি অনেক ক্ষেত্রে জীবিত থাকলে গরম জলে চুবিয়ে সেগুলিকে জড় শঙ্খ বানানো হত। জড় শঙ্খ থেকে হয়তো জোড়াসাঁকো কথাটি এসেছে।
নাম নিয়ে মতভেদ থাকলেও একথা অস্বীকার করার কোনও জায়গা নেই, এই ঠাকুরবাড়িকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল বাংলা সাহিত্যের পীঠস্থান। সেই জোড়াসাঁকোয় এখন বাঙালিই সংখ্যালঘু। বাঙালি কারা? তর্ক বলছে যারা বাংলার জল খায়, তারাই বাঙালি। কিন্তু জোড়াসাঁকোর অন্তত ৬৫ শতাংশ মানুষ নিজেদের হিন্দিভাষি অবাঙালি বলতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। এই ৬৫ শতাংশ মানুষদের প্রতিনিধি নির্বাচনে তাই মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছে রাজনৈতিক দলগুলি। এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী বিজয় ওঝা, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী বিজয় উপাধ্যায় এবং সিপিআইএম এর প্রার্থী ভরত রাম তেওয়ারি। এমনিতে ইতিহাস বলছে এখানকার বাসিন্দারা কোনওদিনই বামেদের পছন্দ করেননি। এই কেন্দ্রে এককালে কংগ্রেসের হাওয়া বইলেও, বর্তমানে এই কেন্দ্রে ঘাসফুলের প্রভাব । এবার একটা হিসেব বুঝে নেওয়া যাক। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বিবেক গুপ্তা। ১২হাজার ৭৪৩ ভোটে হারিয়েছিলেন বিজেপির মিনাদেবী পুরোহিতকে। এবারে এসআইআর প্রক্রিয়ায় এই কেন্দ্র থেকে বাদ গিয়েছে প্রায় ৭০ হাজার নাম। অর্থাৎ তৃণমূল যে মার্জিনে জিতেছিল, তার পাঁচ-ছয় গুণ।
এবারে ফল কী হতে চলেছে? সেটা বলার সময় এখনও আসেনি। কিন্তু জোড়াসাঁকো বিধানসভা জুড়ে এখন প্রবল উৎসাহে ১৬৫ ডেসিবেল ছাড়িয়ে হিন্দি ভাষায় প্রচার চলছে। প্রচার বুঝছে হিন্দিভাষি প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ। বেছে নেওয়া হবে হিন্দিভাষি কোনও একজনকে। এখানে আগে ২৫ বৈশাখের দিন বাল্মিকী প্রতিভা অভিনয় হত। এখন সিয়া-রামের জয়জয়কার করা হয়, তাও গেরুয়া সিঁদুর মাথায়। হায় বাঙালি হায়, তুই আর বাঙালি নাই। না না এক্ষেত্রে ভুল বলা হল। বাঙালি আছে এই কেন্দ্রে। তবে কোনাখামচিতে। rn