অসীম সেন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন ভবানীপুর থেকে , দিপ্সিতা ধর লড়ছেন উত্তর দমদম থেকে। শুভেন্দু অধিকারী লড়ছেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে। মোদ্দা কথা প্রত্যেক প্রার্থ...
অসীম সেন: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লড়ছেন ভবানীপুর থেকে , দিপ্সিতা ধর লড়ছেন উত্তর দমদম থেকে। শুভেন্দু অধিকারী লড়ছেন নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর থেকে। মোদ্দা কথা প্রত্যেক প্রার্থী লড়ছেন একটি অথবা দুটি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে। কিন্তু বরাবরই কি এমনটা হয়ে আসছে? একটা তথ্য দিই কমরেড জ্যোতি বসু প্রথমবার নির্বাচনে জিতেছিলেন রেলওয়ে আসন থেকে।
১৯৪০-এর দশকে জলপাইগুড়ি শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে দোমহনিতে রেল শ্রমিকদের সংগঠিত করার কাজ শুরু করেন জ্যোতি বসু। এখানকার কৃষক ও চা শ্রমিকদের সংগঠন তৈরি ও তেভাগা আন্দোলনেও তার অবদান ছিল। দোমহনি থেকেই বেঙ্গল আসাম রেল রোড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের হয়ে বঙ্গীয় প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় কংগ্রেসের হুমায়ুন কবিরকে মাত্র আট ভোটে পরাজিত করে বিধায়ক নির্বাচিত হন বসু। জ্যোতি বসুর সঙ্গে দার্জিলিং কেন্দ্র থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন অপর কমিউনিস্ট নেতা রতনলাল ব্রাহ্মণ।
ঠিক ই ধরেছেন সেই সময় আসনগুলি পেশা এবং বিশেষ শ্রেণির ভিত্তিতেও ভাগ করা থাকত। ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে বিশেষ করে ১৯৪৭ সালের আগে, আসন বিভাজন কেবল ভৌগলিক এলাকার ভিত্তিতেই ছিল না। বরং পেশা, বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণির ভিত্তিতেও ছিল। ১৯০৯ সালের মর্লে-মিন্টো সংস্কার এবং ১৯১৯ সালের মন্টেগু-চেমসফোর্ড সংস্কারের মাধ্যমে মুসলিম, শিখ, ইউরোপীয়, অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান এবং ভারতীয় খ্রিস্টানদের জন্য আলাদা আসন সংরক্ষিত ছিল। বড় জমিদারদের জন্য আলাদা আসন। গ্রামীণ এবং শহুরে এলাকার ভোটারদের জন্য আলাদা আসন থাকত। বাণিজ্য সমিতিগুলো থেকে প্রতিনিধি। কারখানার শ্রমিকদের প্রতিনিধি।বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাজুয়েটরা ভোট দিয়ে প্রতিনিধি পাঠাতেন।
১৯৫০ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর, এই ধরনের বিভাজন বাতিল করে সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার প্রবর্তন করা হয়। আগে লোকসভায় ২ জন অ্যাঙ্গলো-ইন্ডিয়ান মনোনীত হওয়ার ব্যবস্থা ছিল, যা ২০২০ সালে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে রাজ্যসভায় রাষ্ট্রপতি সাহিত্য, বিজ্ঞান বা সমাজসেবার মতো ক্ষেত্র থেকে ১২ জন সদস্য মনোনীত করেন। ভারতের ভোট আসনগুলো পেশা বা বিশেষ শ্রেণির ভিত্তিতে ভাগ করার প্রথাটি মূলত ব্রিটিশ আমলের এক বিশেষ রাজনৈতিক কৌশল ছিল, যা স্বাধীনতার পর পরিবর্তিত হয়।