(অসীম সেনের হাতে এসে পৌঁছনো একটি চিঠি)মাননীয়া,বঁজুর, বুয়েনোস দিয়াস, গুটেন মরগেন, গুড মর্নিং, সুপ্রভাত.... পনের বছর পরে একজন সাধারণ হয়ে ঘুম ভাঙল। কেমন লাগছে মাননীয়া? বদল আর বদলা কোনওটাই এ মুহূর্তে আপ...
(অসীম সেনের হাতে এসে পৌঁছনো একটি চিঠি)
মাননীয়া,
বঁজুর, বুয়েনোস দিয়াস, গুটেন মরগেন, গুড মর্নিং, সুপ্রভাত.... পনের বছর পরে একজন সাধারণ হয়ে ঘুম ভাঙল। কেমন লাগছে মাননীয়া? বদল আর বদলা কোনওটাই এ মুহূর্তে আপনার হাতে নেই। পনেরো টা বছর আপনার হাতে ছিল মাননীয়া। সময়টা নেহাত কম নয়। সিঙ্গুরে শিল্প খুন করে সেই লাশের ওপর পা রেখে মহাকরণে ঢুকেছিলেন। এরপর একে একে আপনার দলের স্যান্ডোগেঞ্জি, গলায় লোকনাথের মাদুলি পড়া নেতাগুলি কেমন যেন বদলে গেল। প্রত্যেকে উদ্যোগপতি। ফুলে উঠল ব্যাঙ্কব্যালেন্স। গ্যারেজে বিদেশী গাড়ি।
মাননীয়া হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিট টা কেমন করে যেন বন্দ্যোপাধ্যায় সরণী হয়ে উঠেছিল এই পনের বছরে। একের পর এক সম্পত্তি আপনার ভাই, ভাইপোদের নামে। বিজ্ঞান সম্মত ব়্যাগিং রুখে সরকারে এসে, বিজ্ঞানসম্মত চুরি বিদ্যায় সকলে বিদ্যান হয়ে উঠল। চাল, ত্রিপল, কয়লা, বালি, চাকরি হাজার হাজার স্ক্যাম। আপনার বিশ্বাসভাজনের খাটের তলায় টাকায় মোড়া দুষ্টু খেলনা পাওয়া গেল। শান্তিনিকেতন দেখল অপার বৈভব। দাদার মেয়ে প্রাইভেট টিউশন পড়িয়ে কোটি কোটি টাকা কামালো, গুড় বাতাসা বিলি হল অকাতরে। বাঁশি ছেড়ে চড়াম চড়াম ঢাক বাজাল কেষ্ট। ডিয়ার লটারি দুহাত উপুর করে ফার্স্ট প্রাইজ দিয়ে চলল। চাকরি চোর নিজের বাংলোয় চিভাস রিগ্যাল গিলেছে। আর চাকরি হারারা পিচ কালো অজগরের মত রাস্তায় আপনার মন্ত্রী শান্ত্রীর লাথি ঝাঁটা খেয়েছে।
মাননীয়া আপনি একজন মহিলা ।নারী শিক্ষা, নারী সুরক্ষার পাঁচালী আপনার মুখে সবসময়। মাননীয়া আরজিকরের মত ঘটনা আপনার রাজত্বে ঘটে কীভাবে? কোনও উত্তর দিতে পারবেন? যোনিগন্ধা বিকৃতকাম মানুষগুলি কোন কুকীর্তি চাপা দিতে একটি ফুলের মত মেয়েকে হিংস্র নেকড়ের মত ছিড়ে খেল? আপনার দল প্রতিবাদের নাটক মঞ্চস্থ করেছিল। বলির পাঠাকে হাজতে ঢুকিয়ে কান্নার কাজল মেখেছিলেন চোখে। বাংলাকে ছিন্ন ভিন্ন করেছেন। কখনও রাম রহিমের নামে টুকরো করেছেন, কখনও হিন্দী-বাংলায় লড়াই লাগিয়েছিলেন। মাননীয়া আপনি জাতের লড়াই লড়েছেন, ভাতের লড়াই থেকে গিয়েছে অবহেলায়। আপনি গর্ব করেছেন ভিক্ষা দিয়ে। ক্লাবগুলিকে দুহাত ভরে টাকা দিয়েছেন নিজের মাসল পাওয়ার শক্ত করতে।
এখন দেখুন আপনার সেই মাসল পাওয়ার, আপনার সেই চক্রব্যুহ কিছুই বাঁচাতে পারল না। একদিনের ফারাকে আপনাকে চোর শ্লোগান শুনতে হল। আপনার কাছের মানুষদের গায়ে কাদা পড়ল, মানুষে থুতু দিল। আপনি তেরো তলা থেকে এসে পড়লেন আস্তাকুঁড়ে। হিস্ট্রি রিপিট বলে একটা কথা আছে জানেন তো? আপনার ক্ষেত্রে কথাটা পুরোটা খাটল না। বুদ্ধদেব বাবুর সাদা ধুতিতে অন্তত কালি ছেটানো যায়নি। আপনার সাদা শাড়ির কিছুই আর অবশিষ্ট নেই। গোটা শাড়িতে আজ অভিশাপের কালো ছোপ। আপনার জন্য আজ ফিসফ্রাই তোলা থাকবে। খাবেন মাননীয়া? ভগবানের দিব্যি গোটাটাটাই ভেটকি মাছ দিয়ে ভাজা হবে। পাঁক খাওয়া পাঙ্গাস দিয়ে নয়। ওয়াশিং মেসিনেও আপনার দলের ময়লা যাবার মত নয়। দেখুন আর কোনও ভাবে প্রায়শ্চিত্য করা যায় কিনা? ভালো রাখতে তো পারলেন না। ভালো থাকার চেষ্টা করুন।
ইতি ,
প্রত্যাবর্তন বিরোধী, পরিবর্তনকামী এক সাধারণ মানুষ।