অসীম সেন: বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে উঠোনে ঝরে মৃত্যুর কান্না। ২৪ বছরের সুখেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা। পুণেতে গিয়েছিলেন উপার্জনের জন্য। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে সুখেনকে। কে মারল? কেন ...
অসীম সেন: বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে উঠোনে ঝরে মৃত্যুর কান্না। ২৪ বছরের সুখেন পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের বাসিন্দা। পুণেতে গিয়েছিলেন উপার্জনের জন্য। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপানো হয়েছে সুখেনকে। কে মারল? কেন মারল? পরিস্কার নয়। তবে এই মৃত্যু, ফের প্রশ্নের মুখে ফেলে দিল আন্তঃরাজ্য সামাজিক সম্প্রীতিকে। শিকড় খুঁজে হত্যার উদাহরণ মহারাষ্ট্রে এই প্রথম নয়। একই ঘটনা ঘটেছিল গত মাসেও।
একই ঘটনা ঘটেছে তামিলনাড়ুতে, একই ঘটনা ঘটেছে ওড়িশায়। জীবিকার জন্য ওড়িশায় গিয়ে লাঞ্ছনার শিকার হলেন মালদহের তিন শ্রমিক। আক্রান্তদের নাম আনারুল হক, হেফজুর রহমান ও আবু হানজেরা। ধর্ম আর ভাষা শুনেই এদের বাংলাদেশি তকমা দিয়ে দেয় জগৎসিংপুরের পরম হিন্দুরা। কোনওভাবে বেঁচে গিয়েছেন এই তিন শ্রমিক। কিন্তু এভাবে আর কতদিন?
পরিচয় সকলের এক। এরা সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। তফাৎ শুধু রাজ্যে। মুর্শিদাবাদের রানিতলার রিন্টু শেখকে মরতে হয়েছিল উত্তরপ্রদেশের সহকর্মীদের হাতে। ঘটনাটি ঘটেছিল নবি মুম্বইয়ের উলবে থানা এলাকায়। রড দিয়ে থেতলে দেওয়া হয়েছিল রিন্টু শেখের মাথা। এ মৃত্যুর উপত্যকা আমার দেশ নয়। তামিলনাড়ুতেও একই ঘটনা। চেন্নাইতে প্রাণ হারিয়েছিল আমাই মাঝি। দোষ এক, বাংলা ভাষায় কথা বলত আমাই।
তবে কি নিজের দেশও আর সুরক্ষিত নয় দিন আনি দিন খাই মানুষগুলির কাছে? বাংলা ভাষা উচ্চারিত হলে আর অন্ধ বাউলের একতারা বাজে না। বারান্দায় জ্যোৎস্নার চন্দন লাগে না। বরং চিতাকাঠ ডাকে। শাস্তি চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সুখেন যে পরিবারের একমাত্র উপায়ী মানুষ। ঠিক কতটাকা সুখেনের জীবনের দাম হিসেবে ধরতে চলেছে রাষ্ট্র? আবার কি মৃত্যুর তদন্তভার নিতে চলেছে এনআইএ? কে জানে?
হয়তো এভাবেই চলতে থাকবে। সূর্য উঠবে, বসন্ত উপভোগ করবে গঙ্গা ফড়িং। আলতাপাটি শিম ভোরের শিশির মাখবে। সুখেন, আমাই, রিন্টুদের চিতা নিভে যাবে। শকুন উড়বে আকাশে। কবিতা পড়বে অনাথ শিশু। মা কাঁপা কাঁপা গলায় টেপা ফোনে কান দিয়ে বলবে বাছা এবার ঘরে ফিরে আয়।