এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছিলেন নীতীশ কুমার। রেকর্ড গড়লেন, দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তবে কোথাও যেন টেবিলের ফুলদানিটার মত। নীতীশ কুমারের সঙ্গে পদ্মপতিদের সখ্যতা নতুন নয়।...
এবারের বিহার বিধানসভা নির্বাচনেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখ ছিলেন নীতীশ কুমার। রেকর্ড গড়লেন, দশমবার মুখ্যমন্ত্রী হলেন। তবে কোথাও যেন টেবিলের ফুলদানিটার মত। নীতীশ কুমারের সঙ্গে পদ্মপতিদের সখ্যতা নতুন নয়। ১৯৩৯ সালে জর্জ ফার্নান্দেসের সাথে ইক্যুয়ালিটি পার্টি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অটল বিহারী বাজপেয়ীর সরকারে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৫ সালে বিহারে দুবার নির্বাচন হয়েছিল। অক্টোবর নভেম্বরের নির্বাচনে ভারতীয় জনতাপার্টির সঙ্গে অ্যালায়েন্স করে জেতে জনতা দল ইউনাইটেড। মুখ্যমন্ত্রী হন নীতীশ কুমার। ২০১৭ সালে, দুর্নীতির অভিযোগে নীতীশ কুমার আরজেডি থেকে বেরিয়ে এনডিএতে ফিরে আসেন। ২০২৪ এর লোকসভার আগে ইন্ডিয়া জোট গঠনের হোতা ছিলেন নীতীশ। এরপর হঠাৎ ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে, মহাজোটবন্ধন ত্যাগ করেন এবং এনডিএ-তে পুনরায় যোগদান করেন।

মোটের ওপর বিহার রাজনীতি বরাবরই জানে ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে পছন্দ করেন নীতীশ কুমার। কিন্তু এবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন বটে, কিন্তু কেমন যেন কিছুটা ম্রিয়মান। এবারে তাঁর হাতে নেই স্বরাষ্ট্র তথা পুলিশ দফতর। অথচ বিহার পুলিশকে সাবালক করার ক্ষেত্রে নীতীশ কুমারের ভূমিকা সকলেই জানে। তিনি মুখ্যমন্ত্রী, কিন্তু ডান -বামে দুই উপমুখ্যমন্ত্রীই বিজেপির। সমতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা নেতা শকুনি চৌধুরির পুত্র সম্রাটের হাতেই রয়েছে বিহারের স্বরাষ্ট্র দফতরের বাগডোর। নীতীশের হাতে এবার স্বরাষ্ট্র বা পুলিশ থাকবে না সেই সমীকরণটা আগেই বোঝা গিয়েছিল। এমনিতে মুখ্যমন্ত্রীর হাতেই স্বরাষ্ট্র দফতর থাকে। সেটাই রীতি। মমতার হাতে রয়েছে, রয়েছে যোগীর হাতে। তেলেঙ্গানা, অসম সবজায়গাতেই একই ছবি। ১৯৯৮-৯৯ সালে অবশ্য জ্যোতি বসু বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের হাতে স্বরাষ্ট্র দফতর তুলে দিয়েছিলেন। তার পরের বছরই মুখ্যমন্ত্রী হন বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। যার অর্থ দাঁড়ায় বিহারে পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিজেপি তৈরি করছেন উমা ভারতী ঘনিষ্ঠ সম্রাট চৌধুরিকে। নীতীশের মন্ত্রিসভায় এখন রং দে মোহে গেরুয়া। ভবিষ্যতে আরও ৯ জনকে নেওয়ার রাস্তা খোলা রেখেছে এনডিএ।

তবে নীতীশের সঙ্গে মুখ কালাকালি একেবারেই নয়। তাই স্বরাষ্ট্র বিজেপির হাতে গেলেও অর্থ দফতর কিন্তু বিজেপি থেকে এসেছে জেডিইউর হাতে। ভূমি ও রাজস্ব, স্বাস্থ্যের মত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলিও রয়ে গেছে বিজেপির হাতে। যদিও স্বরাষ্ট্র দফতর নীতীশের হাতে না রাখার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে নীতীশের শারিরিক পরিস্থিতি। অর্থ নীতীশের দলের হাতে গেলেও তা নীতীশের নিজের হাতে নেই। নীতীশের স্মৃতি এখন ঠিকমত কাজ করছে না। প্রকাশ্য জনসভায় মোদীকে মুখ্যমন্ত্রী বলে বসেছিলেন। এবারে বিহার বিধানসভায় মোদী ম্যাজিক। ১০১ টা করে আসনে লড়েছিল বিজেপি এবং জিডিইউ বিজেপির ঝুলিতে ৮৯ টি আসন। জেডিইউ জিতেছে ৮৫ টি আসনে। ২৭ জনের মন্ত্রিসভায় বিজেপির রয়েছেন ১৪ জন জেডিইউর রয়েছে ৯ জন। গেল মন্ত্রিসভাতেও নীতীশের দলের থেকে বিজেপির সদস্যসংখ্যা বেশি ছিল। এবারে দুজনেরই সামান্য শক্তিক্ষয় হয়েছে। চিরাগ পাসোয়ান, জিতনরাম মাঝিঁর মত ছোট দলকেও মন্ত্রিসভায় জায়গা দিতে হয়েছে।

বিজেপির তরফে আগেই বলা হয়েছিল প্রতি দলের ছয়জন বিধায়ক প্রতি একজন মন্ত্রী হবেন। নীতীশের দলের ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি তা বলাই বাহুল্য। জোটধর্ম পালনের জন্য নীতীশ মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু ডায়ে বামে সকলই গেরুয়া। তবুও ভারতীয় রাজনীতিতে নীতীশ এমনই এক চরিত্র যাকে বাদ দিয়ে কেন্দ্রে স্বস্তিতে থাকবে না বিজেপি। তাই বিহার নিয়ে সমুখ টানাপোড়েন নৈব নৈব চ। জনতা দল ইউনাইটেডে নীতীশ মানের নেতা নেই যিনি পরবর্তী কালে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। নীতীশ ও আর সক্রিয় ভাবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব সামলানোর মত শারিরীক অবস্থায় নেই। তাই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। অন্তত বোঝানো হচ্ছে এমনটাই।