অসীম সেনঃ আপনি রসোগোল্লা খেতে ভালোবাসেন কিন্তু প্রতিদিন দশটা করে রসগোল্লা খাচ্ছেন। আপনার জন্য বিষ বৈকি। প্যারাসেলসাসের মতে কোনও পদার্থের মাত্রাই বিষ তৈরি করে। জল , লোহা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু মা...
অসীম সেনঃ আপনি রসোগোল্লা খেতে ভালোবাসেন কিন্তু প্রতিদিন দশটা করে রসগোল্লা খাচ্ছেন। আপনার জন্য বিষ বৈকি। প্যারাসেলসাসের মতে কোনও পদার্থের মাত্রাই বিষ তৈরি করে। জল , লোহা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় কিন্তু মাত্রার বেশী হলেই বিষ। কিছু রাসায়নিক পদার্থ অবশ্য যেকোনও মাত্রাতেই বিষ। বিশ্ব ইতিহাসে কিছু বিষের নাম সর্বজন বিদিত কারণ সেগুলি কিছু বিখ্যাত আত্মহত্যা কিংবা খুনের সঙ্গে জড়িত। প্রথমেই উল্লেখ করা যাক বেলাডোনা বা ডেডলি নাইটশেড। বেলাডোনা একটি ইতালীয় শব্দ যার অর্থ সুন্দরী মহিলা। মধ্যযুগে এই উদ্ভিদ প্রসাধনীর কাজে ব্যবহৃত হত। আবার বেলেডোনাকে বলা হত ডেডলি নাইটশেড যার অর্থ মৃত্যুর রাতের ছায়া। এই উদ্ভিদে প্রচুর পরিমাণে সোলানিন, হায়োসিন এবং অ্যাট্রোপিন রয়েছে। ১০৪০ সালে ডেনিশদের বিষ প্রয়োগের জন্য ম্যাকবেথ নাইটশেড ব্যবহার করেছিলেন। সম্ভবত রোমান সম্রাট ক্লডিয়াসকে হত্যা করার জন্য নাইটশেড ব্যবহার করা হয়েছিল।

এ এস পি ভেনম বিষটি ক্লিওপেট্রার মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত। এটি সাপের বিষ। যদিও ইতিহাসবিদরা এখনও নিশ্চিত নন যে ক্লিওপেট্রা আত্মহত্যা করেছিলেন নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছিল। এই বিষ অ্যস্প অর্থাৎ মিশরীয় কোবরার মধ্যে থাকে। এধরণের বিষে নিউরোটক্সিন এবং সাইটোটক্সিন থাকে। এরফলে শ্বাসযন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে ফলে মৃত্যু হয়।

বিষ জগতে হেমলক একটি পরিচিত নাম। এই বিষে থাকে কোনিয়াম ম্যাকুল্যাটাম যা একটি উদ্ভিদের শিকর। এতে প্রচুর পরিমাণে বিষাক্ত অ্যালকালয়েড থাকে। যার ফলে পক্ষাঘাত এবং শ্বাসকষ্টের ফলে মৃত্যু হয়। হেমলক প্রয়োগে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের মৃত্যু হয়েছিল।

স্ট্রাইকাইন বিষটি পাওয়া যায় নাক্স ভোমিকা স্ট্রাইকাইন গাছ থেকে। এই গাছের বীজ অত্যন্ত বিষাক্ত অ্যালকালয়েড স্ট্রাইকনাইন এবং ব্রুসিনের একটি প্রধান উৎস। স্ট্রাইকাইনও হেমলকের মতই কাজ করে। বিখ্যাত খুনী ডা থমাস নীল ক্রিম একাধিক রোগীকে এই বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করেছিলেন। শেষ পর্যন্ত ১৮৯২ সালে তাকে মৃত্য়ুদণ্ড দেওয়া হয়। এই বিষের সবথেকে মারাত্মক দিক হল, এর কোনও প্রতিষেধক নেই।

আর্সেনিক বিষ অত্যন্ত পরিচিত। এই বিষ এনজাইম উৎপাদনে বাধা দিয়ে হত্যা করে। বোর্জিয়া পরিবার তাদের শত্রুদের হত্যার জন্য আর্সেনিক ব্যবহার করত। সম্ভবত এই বিষে মৃত্যু হয়েছিল নেপোলিয়ন বোনাপার্ট , ইংল্যান্ডের তৃতীয় জর্জ এবং সাইমন বলিভারের মত ব্যক্তিত্বদের। যদিও আধুনিক সমাজে এই বিষ খুনের ভালো অস্ত্র নয়। কারণ এটি সনাক্ত করা সহজ।

আর্সেনিকের মতো পোলোনিয়ামও একটি রাসায়নিক উপাদান। এক গ্রাম বায়বীয় পোলোনিয়াম দশ লক্ষেরও বেশি মানুষকে হত্যা করতে পারে। এই বিষ প্রয়োগে সঙ্গে সঙ্গে কেউ মারা যান না। ধীরে ধীরে কষ্ট ভোগের পর কয়েক দিন বা সপ্তাহের মধ্যে মৃত্যু ঘটে। কুখ্যাত গুপ্তচর আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোকে হত্যা করার জন্য পোলোনিয়াম ব্য়বহার করা হয়েছিল। গ্রিন টি এর মধ্যে এই বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আলেকজান্ডার লিটভিনেঙ্কোর মৃত্যু হয়েছিল এক সপ্তাহের মধ্যে। পিয়ের কুরির কন্যা আইরিন কুরি সম্ভবত ক্যান্সারে মারা গিয়েছিলেন। কিন্তু তার ল্যাবে পোলোনিয়ামের একটি শিশি ভাঙা অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল।