আমাদের বাংলা ভাষায় এমন অনেক প্রবাদের চল রয়েছে যার উৎস আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। যেমন আমরা একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি মারের নাম ধনঞ্জয়। একটু যারা বিদ্যান তারা বলে থাকেন প্রহারেণ ধনঞ্জয়ঃ। কিন্তু এ কথাটি ...
আমাদের বাংলা ভাষায় এমন অনেক প্রবাদের চল রয়েছে যার উৎস আমাদের অনেকের কাছেই অজানা। যেমন আমরা একটা কথা প্রায়ই বলে থাকি মারের নাম ধনঞ্জয়। একটু যারা বিদ্যান তারা বলে থাকেন প্রহারেণ ধনঞ্জয়ঃ। কিন্তু এ কথাটি এলো কোথা থেকে? এর পিছনে একটা গল্প আছে। এক দরিদ্র ব্রাহ্মণের চার জামাই ছিল। হরি, মাধব, পুন্ডরীকাক্ষ এবং ধনঞ্জয়। চার জামাই ছিল অকর্মার ঢেকি। এখানে ফের একটা প্রবাদ উঠে আসল অকর্মার ঢেকি। তা পরে কোনও এক লেখায় অকর্মার ঢেকি প্রবাদটা ব্যাখা করা যাবেখন। প্রসঙ্গে আসা যাক। চার জামাই একবার শ্বশুর বাড়িতে এসেছে। গরীব ব্রাহ্মণ কোনও ভাবে জামাইদের জন্য চর্ব্য চোষ্য লেহ্য পেয় র আয়োজন করল। চর্ব্য মানে যা চিবিয়ে খেতে হয়, চোষ্য মানে যা চুষে খেতে হয়, লেহ্য মানে যা চেটে খেতে হয় আর পেয় অর্থ যা পান করতে হয়।

শ্বশুরের ধারণা, জামাই মানুষ আর কতদিনই বা থাকবে? কিন্তু এমন আদর যত্ন ছেড়ে জামাইরা তো আর যাবার নাম করে না। অন্যদিকে শ্বশুর বেচারা কিছু বলতে পারছেন না মেয়েদের মুখের দিকে চেয়ে। তখন ব্রাহ্মণ এক বুদ্ধি বাতলালো। জামাইদের খাবার পাতে হবি দিল না। হবি মানে ঘি। যে জামাইয়ের নাম হরি, সে তো দারুণ রেগে গেল। এত অপমান! রাগের চোটে সে বাড়ি ফিরে গেল। অপর তিনজন অবশ্য কিছু মনে করল না। দ্বিতীয় দিন খাবার আসন বা পিড়ি দেওয়া হল না। অপমানিত বোধ করে মাধব চলে গেল। আর একদিন জঘন্য খাবার দাবার দেওয়া হল। পুন্ডরীকাক্ষ সেদিনই ঝোলা কম্বল গুটিয়ে বিদায় নিল। কিন্তু ধনঞ্জয় যাবার নাম করে না। একদিন যায় দুদিন যায় শেষপর্যন্ত শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে পিটিয়ে ঘর ছাড়া করল। এই গল্প থেকেই তৈরি হল বিখ্যাত শ্লোক।
হবির্বিনা হরি যাতি, বিনা পীঠেন মাধবঃ
কদন্নেঃ পুণ্ডরীকাক্ষ, প্রহারেণ ধনঞ্জয়ঃ