পঁচিশে বৈশাখ গোটা রাজ্যে পালিত হল রবি কবির জন্মদিন। ওদিকে স্বপ্নে পঞ্চানন্দ তালুকদারের কিছু ভাবনা এল। ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং চিঠি লিখেছেন। অসীম সেন কে জানালেন পঞ্চানন্দ তালুকদার।...
পঁচিশে বৈশাখ গোটা রাজ্যে পালিত হল রবি কবির জন্মদিন। ওদিকে স্বপ্নে পঞ্চানন্দ তালুকদারের কিছু ভাবনা এল। ভাবনা রবীন্দ্রনাথকে নিয়েই। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং চিঠি লিখেছেন। অসীম সেন কে জানালেন পঞ্চানন্দ তালুকদার। সেই ভাবনাই ভাষায় তুলে ধরলেন অসীম সেন
হ্যাপি বার্থডে টু ইউ, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
হ্যাপি বার্থডে ডিয়ার টেগোর, হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ
চুপ কর আকাম্মার দল। বোধ বুদ্ধি সংস্কৃতি সব গঙ্গায় বিসর্জন দিয়েছিস নাকি? সংস্কৃতি নিয়ে ভাবতে গেলে হাঁটু ব্যথা করে? করে তো বটেই, নয়তো আমার গানের সঙ্গে ডিজে চালানোর কথা বলিস? আমি তো রীতিমত ভয়ে ছিলাম , তোর ওই ডিজে বাজানোর কথা কয়েকদিন আগে শুনতে পেলেও, পিসি লিখে ফেলত, হাম্বা হাম্বা রম্ভা রম্ভা, এবারে তোমার তালা ,ভাঙবো আমি পল্লিবালা। সর্বহারার ঢাক পেটানো মানুষগুলি একদিন আমাকে বুর্জোয়া বলে দাগিয়ে দিয়েছিল, এখন তাদেরই পোলাপানদের বিদেশি গাড়ি, বিদেশি ঘড়ি ছাড়া চলে না। আর তোরা তো আরও এককাঠি ওপরে। ম্যাডাম আমার গীতাঞ্জলির ষষ্ঠি পুজো করে কথাঞ্জলি লিখল। মুখ্যমন্ত্রীর হুড়কো দেখিয়ে কাব্য পুরস্কার পর্যন্ত ট্যাকে গুঁজে নিল। আর আশেপাশের ধামাধারি গুলি ? কেউ কাক আঁকছে কেউ বা ছাইপাশ লিখে চলেছে রানিমার মস্তকে হস্ত বোলাবার জন্য। “জাগিয়া দেখিনু, জুটিয়াছে যত হনুমান আর অপদেব!”“হুজুরের চোখ, যাবে কোথা বাবা?”প্রণামিয়া কয় মোসাহেব। যে রাজ্যটার দিকে গোটা দেশ সম্ভ্রমের সঙ্গে তাকাত। যে কলকাতা একদিন রত্নগর্ভা হিসেবে পরিচিত ছিল, সেখানে পাড়ায় পাড়ায় গলিতে গলিতে এখন বালি গরু কয়লার পাইকারি হিসেব হয়। আর লেখাপড়া? বাংলা মিডিয়ামের মাস্টার হবার জন্য সকলে আকুপাকু করছে। কিন্তু সেই স্কুলে নিজের ছেলেমেয়েদের পড়াতে পারছে না। মাধ্যমিকে প্রথম দেড়শ জনের মধ্যে একজনও কলকাতা থেকে নেই! আগে পঁচিশে বৈশাখ একটা হচ্ছে গিয়ে ব্যাপার ছিল। পাড়ায় পাড়ায় চিত্রাঙ্গদা কিংবা শ্যামার মহরা চলত। রথের রশি, মুকুট, দেনা পাওনার নাট্যরূপ করতেন পাড়ার কাকা জেঠারা। আর এখন? ভ্যালেন্টাইনস ডে তে তিনি আমার কবিতা তুলে দেন, তোমারেই যেন ভালোবাসিয়াছি শত রূপে শতবার জনমে জনমে যুগে যুগে অনিবার।" কেন ভাই কেন? বাঙালির মনে টিকে আছি নিজের মত করে, সেখানেও গ্যামাক্সিন না মাখালে হচ্ছে না? যাক এবার অবশেষে দিন বদলেছে। নতুন সূর্যের দিকে তাকিয়ে আগামীর কণ্ঠে উচ্চারিত হয় আমার বাণী "হে নূতন,দেখা দিক আর-বার জন্মের প্রথম শুভক্ষণ। তোমার প্রকাশ হোক কুজ্ঝটিকা করি উদ্ঘাটন সূর্যের মতন।" তোরা আপাতত নিজের দলের অক্সিজেনের অভাবে ভোগা দমবন্ধ হয়ে যাওয়া মানুষগুলিকে দেখগে। শিক্ষা স্বাস্থ্য, আইন শৃঙ্খলা নিয়ে তোদের সঙ্গে কথা বলে আর লাভ নেই। তোদের দেখে এখন একটাই লাইন বলতে ইচ্ছে করে। দুয়ার এঁটে ঘুমিয়ে আছে পাড়া, কেবল শুনিস ইডি র কড়ানাড়া। ভাইপো বাড়ি আছো?
ইতি,
নোবেল খোয়ানো এক দুর্ভাগা কবি