অসীম সেন: প্রথমে একটা বংশতালিকা দেখে নেওয়া যাক।বৈবস্বত মনুর পুত্র ইক্ষ্বাকু। তাঁর পুত্র বিকুক্ষী, তাঁর পুত্র বাণ, বাণের পুত্র অনরণ্য। তারপর পৃথু, ত্রিশঙ্কু, হরিশচন্দ্র, রঘু, অজ, দশরথ, দশরথের পুত্র পুর...
অসীম সেন: প্রথমে একটা বংশতালিকা দেখে নেওয়া যাক।বৈবস্বত মনুর পুত্র ইক্ষ্বাকু। তাঁর পুত্র বিকুক্ষী, তাঁর পুত্র বাণ, বাণের পুত্র অনরণ্য। তারপর পৃথু, ত্রিশঙ্কু, হরিশচন্দ্র, রঘু, অজ, দশরথ, দশরথের পুত্র পুরুষোত্তম রাম। এই বংশ সূর্যের উপাসক ছিলেন, তাই এদের সূর্যবংশ বলা হয়। সেই সময়ের কথা যখন রাবণ বিশ্বজয়ে বেড়িয়েছিলেন। অযোধ্যায় তখন রাজত্ব করছিলেন ইক্ষ্বাকু বংশের রাজা অনরণ্য। রাবণ তাকে পরাজয় অথবা মৃত্যু বেছে নিতে বলেন। অনরণ্য যুদ্ধ বেছে নেন। প্রবল যুদ্ধে রাবণের হাতে অনরণ্যের মৃত্যু হয়। মৃত্য়ুর পূর্বে অনরণ্য অভিশাপ দেন যে তাঁর উত্তরপুরুষ বিষ্ণুর অবতার রামের হাতে রাবণের মৃত্যু হবে।
রাম রাবণের যুদ্ধের কথা আমরা আলোচনা করি, কিন্তু রাবন কিন্তু মোটেই রামের সমসাময়িক ছিলেন না। রাবণ ভগবান রামের জন্মের ১২ বা ১৩ মহাযুগ আগে জন্মগ্রহণ করেন। উভয়েই ত্রেতা যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন । তবে ভগবান রাম ২৪ তম ক্রেতা যুগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। রামায়ণ নিয়ে আলোচনা করতে গেলে একটি বিষয় অবশ্যই মাথায় আসবে। রাম অযোধ্যার ছেলে। মিথিলার জামাই। তাহলে রাবণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে কেন জনক অথবা ভরতের সেনা রামের হয়ে যুদ্ধ লড়েনি? উভয় সেনাই যথেষ্ট শক্তিশালী। এর উত্তর লুকিয়ে আছে ভগবানের কাছে চাওয়া রাবণের বরের মধ্যে। কোনও দেব, দানব তাঁকে বধ করতে পারবে না। সাধারণ মানব সম্পর্কে তাঁর অবজ্ঞা ছিল। তাই রাবনকে বধ করতে রামকে সাধারণ মানুষ হতে হয়েছিল।
তাছাড়া রাবনের ওপর একটি অভিশাপও ছিল। রাবন অহংকার বশে একবার কৈলাশ পর্বতকে লঙ্কায় নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। নন্দী তাঁকে বাঁধা দিলে রাবণ নন্দীর রূপকে বাঁদরের সঙ্গে তুলনা করে উপহাস করেন। নন্দী ক্রোধিত হয়ে শাপ দেন, বাঁদরই তাঁর পরাজয়ের কারণ হবে। সুতরাং রামকে সুগ্রীবের স্মরণাপন্ন হতে হয়। আধুনিক ধারণায় রামকে যদি প্রলেতারিয়েত বলাহয় তাহলে ভূল বলা হবে না। যে কারণেই হোক তিনি সর্বহারার জীবন কাটিয়েছিলেন। নিষাদরাজ গুহ ছিলেন তাঁর পরম বন্ধু। সমাজের নীচু তলার জীব অর্থাৎ বাঁদর দের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। রাম এমন এক যুগপুরুষ যিনি একটা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন সর্বহারা খেটে খাওয়া মানুষদের ওপর ভরসা করে। এমন এক ভাবনা যা বর্তমানেও ভীষণ ভাবে প্রাসঙ্গিক।