জব ঘায়েল হুয়া হিমালয়, খতরে মে পড়ি আজাদিযব তক থি সাস লড়ে বো, ফির আপনি লাশ বিছা দিসিনেমা, দেশপ্রেম, বিতর্ক সব ফিকে হয়ে যাবে মেজর শয়তান সিং ভাটির নেতৃত্বে রেজাংলার যুদ্ধের কথা শুনে। সত্যি কাহিনী, কিন...
জব ঘায়েল হুয়া হিমালয়, খতরে মে পড়ি আজাদি
যব তক থি সাস লড়ে বো, ফির আপনি লাশ বিছা দি
সিনেমা, দেশপ্রেম, বিতর্ক সব ফিকে হয়ে যাবে মেজর শয়তান সিং ভাটির নেতৃত্বে রেজাংলার যুদ্ধের কথা শুনে। সত্যি কাহিনী, কিন্তু শুনতে অনেকটা গল্পের মত। ভারতীয় সৈন্যদের শতাধিক মৃতদেহ খুঁজে পাওয়া গিয়েছিল , যাদের দেহ বরফে জমে গিয়েছিল কিন্তু আঙুল ছিল ট্রিগারে। ১৯৬২ সালের একটি গৌরব গাঁথা।

১৯৫০ সালের আগে ভারত চিনের সঙ্গে কোনও সীমান্ত ভাগ করত না। মাঝে বাফারের ভূমিকা নিত তিব্বত। ১৯৫৪ সালে ভারত ও চিন চুক্তির দ্বারা নিজেদের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি দেয়। প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্য চিন গোটা বিশ্বের কাছে পরিচিত। ১৯৫৬ সালে চিন, আকসাই- চিন সড়ক নির্মাণ শুরু করে এটি ভারতের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশকে হুমকির মধ্যে ফেলে। ১৯৫০ দশকের শেষের দিকে চিনা মানচিত্রে অরুণাচল প্রদেশের একটি বড় অংশকে চিনা ভূখণ্ড হিসেবে দেখানো হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ভারত ১৯৬০ সালে বেইজিং সীমান্তের এলাকাগুলিকে তাদের নিজস্ব বলে দাবি করে চৌকি স্থাপন করে। উদ্দেশ্য ছিল উভয়ে উভয়ের জায়গা ছেড়ে দেবে। কিন্তু চিন এটিকে যুদ্ধের উস্কানি হিসেবে দেখে। ১৯৬২ সালে উত্তেজনা এমন পর্যায়ে পৌঁছয় চিন নেফা এবং লাদাখ আক্রমন করে।

শুরু হয় ইন্দো-চিন যুদ্ধ। ১৬৫০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত রেজাংলা পর্বত গিরিপথটি বৃহত্তর কৈলাশ পর্বতমালার অংশ। এটি লাদাখের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর। এখানে একটি বিমানঘাঁটি ছিল যা ভারতীয় বাহিনীর রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ পরিস্থিতিতে মেজর শয়তান সিং ভাটি, মাত্র ১২০ জন সৈন্য় নিয়ে রেজাংলা রক্ষার দায়িত্বে ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে ছিল না কোনও সাঁজোয়া সাপোর্ট, আর্টিলারি ব্যাকআপ। এমনকি শীতের পোশাকও পর্যাপ্ত ছিল না।

১৯৬২ সালে ৫০০০ সৈন্যের একটি শক্তিশালী চিনা বাহিনী রেজাংলা চড়াও হয়। পরাজয় নিশ্চিত । পাহাড়ের বিপরীত ঢাল বেয়ে নেমে জীবন বাঁচানোই একমাত্র পথ অবশিষ্ট ছিল। তবে এই সহজ কাজটি সেদিন করেনি ভারতীয় সেনাবাহিনী। তাঁরা এক একজন মূর্তিমান যম হয়ে রুখে দাঁড়ায় চিনা বাহিনীর বিরুদ্ধে। ১২০ জন ভারতীয় সৈন্য রুখে দিয়েছিল চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মির ৫০০০ জন সৈন্যকে। -৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অসম লড়াই । ১২০ জন ভারতীয় সৈন্যের মধ্যে ১১০ জন সেদিন শহিদ হন। পরিখায় পাওয়া গিয়েছিল তাঁদের হিমায়িত দেহ। তখনও বন্দুকের ট্রিগারে হাত ছিল। মেডিকেল অফিসারের হাতে শেষ পর্যন্ত ছিল ওষুধের সরঞ্জাম। সেদিন এই অসম লড়াই চিনাদের চুশুল বিমানঘাঁটি দখল করতে দেয়নি। দেয়নি চিনা সৈন্যদের লাদাখের অভ্যন্তরে ঢুুকতে দিতে। লাস্ট ম্যান, লাস্ট রাউন্ড এই ছিল সেই যুদ্ধের শ্লোগান।

ভোর পাঁচটা নাগাদ চিনা পদাতিক বাহিনীর প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিরোধ করে ভারতীয় সেনা। এরপর শুরু হয় চিনাদের পক্ষ থেকে অবিরাম কামান ও মর্টার হামলা। ভারতীয়রা রাইফেল গ্রেনেড এবং মেশিনগান দিয়ে উত্তর দেয় সেই হামলার। যুদ্ধে আহত হন শয়তান সিং কিন্তু তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যাবার নির্দেশ দেন। ১২০ জনের অপ্রতিরোধ্য দেওয়াল ধীরে ধীরে ভাঙতে থাকে। দুটি প্লাটুন ধ্বংস হয়। তবুও তারা রাত না হওয়া পর্যন্ত নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছিল। এদিকে রেডিও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় ব্যাকআপ টিম পাঠানো সম্ভব হয়নি। মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও কেউ আত্মসমর্পন করেননি। একটা সময়ে গুলি শেষ হয়ে গেলে খালি হাতে লড়াই শুরু করেন। সকলে প্রতিশ্রুতি রেখেছিল। কেউ পিছু হটেনি।

মাত্র দশজন বেঁচেছিল সেদিনের কাহিনী শোনানোর জন্য। হয়তো খাতায় কলমে সেদিন যুদ্ধটি চিন জিতেছিল। কিন্তু একশ কুড়ি জনের দেশপ্রেম চিনাদের লাদাখের গভীরে প্রবেশ করতে দেয়নি। পরেরদিনই চিনারা যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। তাদের তরফে মারা গিয়েছিল ১৩০০ র বেশি সৈন্য। মেজর শয়তান সিং ভাটিকে মরণোত্তর পরমবীর চক্রে ভূষিত করা হয়। ২০২১ সালে রাজনাথ সিং সেই স্থানে রেজাংলা যুদ্ধের জন্য একটি স্মারক স্থাপন করেছিলেন। স্মারক স্তম্ভে লেখা রয়েছে
"How can a man die better than facing fearful odds, for the ashes of his fathers and the temples of his gods"